স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বেতন বৃদ্ধি ও বদলির প্রতিবাদে অনশন আন্দোলনে প্রাথমিক শিক্ষকরা৷ সমাধানের রফাসূত্র বেড় করতে শনিবার আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী৷ আন্দোলনকারীদের আর্থিক দাবি মেনে নেওয়া অসম্ভব বলে এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘যে আর্থিক দাবি দাওয়া তোলা হচ্ছে তা কোনও মতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়৷ রাজ্যের অর্থিক সঙ্কুলান অতটা ভালো নয়৷’’ পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের কাছে তাঁর আবেদন, ‘‘ক্লাস বন্ধ রেখে আন্দোলন চালানো ভাল দেখায় না। পড়ুয়ারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই দিকটা মানবিকতার সঙ্গে দেখুন আন্দোলনকারীরা৷’’

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এর আগে আন্দোলন করে রাজ্যের রোষানলে পড়েছেন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ১৪ জন সদস্য৷ তাঁদের বদলি করা হয় অন্যত্র৷ সংগঠনের দাবি, ওই ১৪ জন শিক্ষকের বদলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷ যা বাতিল করতে হবে অবিলম্বে৷ এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘‘রুটিন বদলি হয়েছে প্রয়োজনের ভিত্তিতে৷ প্রায় তিন সাড়ে তিন হাজার শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে৷ তার মধ্যে ওই ১৪ জনও রয়েছেন৷ এটা বেছে বেছে সরকার কিছু করেনি৷’’

শিক্ষকদের আন্দোলনে এদিন গিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ৷ তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি৷ পালটা দিলীপবাবুকে বিঁধে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দিলীপ ঘোষ গিয়েছিলেন আন্দোলনমঞ্চে। দিলীপবাবুকে নিয়ে ওরা চলে যান দিল্লি। সময় দিন, উনিই বেতন বাড়িয়ে দেবেন৷’’ একই সঙ্গে বাম জমানায় শিক্ষকদের দাবি দাওয়া অপূরণের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী৷ তাঁর কথায়, ‘‘এওদের কোনও ক্ষমতা নেই৷ সুজনবাবুদের কোনও কাজ নেই, তাই মাঝে মধ্যে গিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।’’

ড্যামেজ কন্ট্রোলে এদিন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আন্দোলকারী শিক্ষক, শিক্ষিকারা৷ এই বৈঠক ফলপ্রসূ ন হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে৷ বেতন কাঠামো বৃদ্ধির দাবিতে সরকার সাড়া দেয়নি বলেই মনে করছেন আন্দোলনকারীরা৷ বদলির বিষয়টিও বিবেচনাধীন৷ বৈঠকের নির্যাস নিয়ে অনশন মঞ্চে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা৷ শিক্ষামন্ত্রীর কথাতেও ধরা পড়েছে তার রেশ৷