ওয়াশিংটন: দিনকয়েকের ছুটির জন্য বসের কাছে বকুনি খাওয়ার দিন শেষ। আর অজুহাত নয় বরং তাঁকেও বোঝান সুস্থ থাকতে, আরও ভালোভাবে কাজ করতে দিনকয়েকের হাওয়াবদল ঠিক কতটা জরুরি। ৪০বছরের একটি গবেষণা সামনে এনেছে এমন এক তথ্য যা শুনলে আপনি খুশি হতে বাধ্য।

হাওয়া বদল আয়ুষ্কাল বাড়াতে পারে।এই গবেষণার এক গবেষক প্রফেসর টিমো স্ট্রান্ডবারগ জানিয়েছেন, ‘এরম ভাববেন না যে ছুটিতে না গিয়ে শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা পালন করলেই আপনি কঠোর পরিশ্রম করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: নগরজীবন সুখের নয় পাখিদের

জীবনকে চাপমুক্ত করার অন্যতম সহজ পন্থা হাওয়াবদল’।১,২২২ জন মধ্যবয়সী পুরুষকে নিয়ে এই গবেষণা করা হয়। তাঁদের প্রত্যেকই ১৯১৯ থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে হেলসিঙ্কি বিজনেসম্যান স্টাডিতে নিযুক্ত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেককেই হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এর প্রধান কারণ
ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, মধুমেহ,অতিরিক্ত মেদ৷

এই ১,২২২ জনকে দুটিদলে ভাগ করা হয়। কন্ট্রোল গ্রুপ ও ইন্টারভেন্সেন গ্রুপ। কন্ট্রোল গ্রুপে ছিলেন ৬১০ জন পুরুষ এবং ইন্টারভেন্সেন গ্রুপে ছিলেন ৬১২ জন পুরুষ। ইন্টারভেন্সেন গ্রুপের পুরুষদের স্বাস্থ্যকর খাবার, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান ত্যাগ ছাড়াও যে একটি কাজ করতে বলা হয় তা হল প্রতিচার মাস অন্তর হাওয়াবদল।

আরও পড়ুন: সাইরাস মিস্ত্রি এনসিএলএটি-তে

অন্যদিকে কন্ট্রোল গ্রুপের পুরুষরা কন্ট্রোল ডায়েটে থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে এই হাওয়াবদলের বিষয়টি হয়নি। জানা যায়, কন্ট্রোল গ্রুপ এর তুলনায় ইন্টারভেন্সেন গ্রুপের হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যা হওয়ার পরিমাণ প্রায় ৪৬শতাংশ কম।

পাশাপাশি গবেষকরা জানিয়েছেন ২০০৪ সাল পর্যন্ত ইন্টারভেন্সেন গ্রুপের মৃত্যুর হার কন্ট্রোল গ্রুপের তুলনায় বেশী ছিল। এরপর ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে দেখা যায় দুই গ্রুপের মৃত্যুর হার প্রায় একই। স্বল্প সময়ের ছুটি নেওয়ার কারণেই মৃত্যু এমনটাই মনে করা হয়েছে।
স্ট্রান্ডবারগ আরও জানান, বেশী কাজ, কম ঘুম সাথে ছোট্ট ছুটি। এই কারনেও ইন্টারভেন্সেন গ্রুপের অনেকে লাভবান হননি।

কারণ এর প্রধান উদ্দেশ্য হল জীবনকে চাপমুক্ত করা। কিন্তু এই ছোট ছুটির কারনে তা আদতে সম্ভব হয়ে ওঠে নি। প্রফেসর স্ট্রান্ডবারগ বলেন, সুস্থভাবে চাপমুক্ত অবস্থায় কাজ করতে চাইলে, হার্টের রোগ এড়াতে যেতে হবে লম্বা ছুটিতে। তাহলে আর দেরি কেন? কাজ করতে করতে হাঁফিয়ে উঠলেই চলো লেটস গো!