চন্ডীগড়: গোটা দেশে শোচনীয় পরাজয়ের মধ্যেও কংগ্রেসের জয়ের ধ্বজা ধরে রাখতে পেরেছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং৷ না হলে সত্যিই সত্যিই কংগ্রেস মুক্ত দেশ গঠনের দিকে এগিয়ে যেত ভারত৷ পঞ্জাবে কংগ্রেসকে সাফল্য এনে দিয়ে দলের মধ্যে নিজের প্রভাব আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিলেন অমরিন্দর সিং৷ এবার অপছন্দের লোকদের ডানা ছাঁটতে তৎপর হয়ে উঠেছেন তিনি৷

মন্ত্রিসভায় অমরিন্দর সিংয়ের পয়লা নম্বর অপছন্দের লোক এখন একজনই৷ নভোজ্যোত সিং সিধু৷ অমরিন্দরের মতে, রাজ্যে কংগ্রেসের ফল আরও ভালো হতে পারত৷ কিন্তু সিধুর ‘ইমরান প্রেম’ তাতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়৷ কর্তারপুর করিডরের শিলান্যাসে গিয়ে পাকিস্তানের প্রশংসায় যেভাবে তিনি পঞ্চমুখ হন তা শহরাঞ্চলের একটা বড় অংশের মানুষ মেনে নিতে পারে৷ তার প্রভাব পড়েছে ভোটবাক্সে৷ রাজ্যে ১৩টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস অন্তত ১০টি আসনে জয়ের আশা দেখেছিল৷ কিন্তু জয় এসেছে মাত্র ৮টি আসনে৷ এর জন্য সিধুকেই দায়ী মনে করছেন অমরিন্দর৷ এমনটাই কংগ্রেস সূত্রে খবর৷

তাই দলের মঙ্গলের জন্য সিধুকে মন্ত্রিসভা থেকে ছাঁটাই করতে উঠেপড়ে লেগেছেন অমরিন্দর সিং৷ কলকাঠিও নাড়তে শুরু করেছেন৷ সূত্রের খবর, দিল্লিতে দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তাদের কাছ থেকে একবার সবুজ সঙ্কেত পেলেই সিধুর মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় হয়ে দাঁড়াবে স্রেফ সময়ের অপেক্ষা৷

বিজেপি ছেড়ে সিধু কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুই নেতার মধ্যে মনোমালিন্যের শুরু৷ এরপর নানা ঘটনাক্রমের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে সেই সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ে৷ এবারের লোকসভা নির্বাচনে স্ত্রী’র টিকিট না পাওয়া নিয়ে সিধু ও অমরিন্দরের বিবাদ আরও চরমে ওঠে৷ সিধু স্ত্রী চন্ডীগড় থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি৷ এর জন্য অমরিন্দরকে দায়ী করেন সিধু৷

তবে অমরিন্দর একা নন, সিধুর উপর ক্ষিপ্ত দলের বহু নেতা৷ পাকিস্তানের প্রতি তাঁর নরম মনোভাব দলের অনেকেরই পছন্দ নয়৷ অতীতেও সিধুকে মন্ত্রিসভা থেকে সরাতে আওয়াজ উঠেছে দলের মধ্যে৷ এবার খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সক্রিয় হওয়ায় অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছেন৷