নয়াদিল্লি : প্রতি বছরেই পাল্লা দিয়ে কমছে সুদের হার। গত দু বছরে যে হারে সুদের হার কমেছে, তা বিগত ১২ বছরে কমেনি। ফলে বিনিয়োগ করেও সেই ভাবে রিটার্ণ পাওয়া যাচ্ছে না।

ফিক্সড ডিপোজিট থেকে মিউচুয়াল ফান্ড, সব জায়গাতেই একই অবস্থা। এরই মাঝে কিছু স্কিম এখনও নিশ্চিত রিটার্ণের সুবিধা দিচ্ছে। এরকম পাঁচটি স্কিম রয়েছে, যেখানে টাকা বিনিয়োগ করলে, হাতে আসবে নিশ্চিত রিটার্ণ। কোনও ঝুঁকি থাকবে না এতে।

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ– দীর্ঘমেয়াদি লগ্নি প্রকল্প হিসেবে রয়েছে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ৷ পিপিএফের সময়সীমা তুলনায় অনেকটাই বিনিয়োগকারীদের সুবিধামত হয়ে থাকে।

যে কোন বিনিয়োগকারীরা পাঁচ বছর পরে পিপিএফে পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং ১০.৫ থেকে ১১ শতাংশ হারে ট্যাক্স থেকে সুবিধাও পাবেন। পিপিএফে বিনিয়োগকারীরা ৮ শতাংশ হারে রিটার্ন পেতে পারেন।

পিপিএফের ক্ষেত্রেও আয়কর ছাড় সংক্রান্ত সুবিধা একইরকম হলেও বিনিয়োগকারীদের ইচ্ছের উপর তা নির্ভরশীল। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা চাইলে তবে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এই পিপিএফের মেয়াদকাল ১৫ বছর তবে তা অতিরিক্ত ৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়। কোন বিনিয়োগকারী চাইলে একেবারে ১৫ বছর পরে পুরো টাকা তুলে নিতে পারবেন। আবার চাইলে এক বছর এক বছর করে অতিরিক্ত পাঁচ বছর রাখতেও পারবেন।

পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট— পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট থেকে পাওয়া যাবে ৫.৫ শতাংশ থেকে ৬.৭ শতাংশ। এই সুদের হার প্রযোজ্য হবে ২০২০ সালের পয়লা জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পোস্ট অফিস টাইম ডিপোসিট স্কিমে সুদের হার ৫.৫০ থেকে ৬.৭০ শতাংশ।

সঞ্চয়ের মেয়াদ ১বছর, ২ বছর, ৩ বছর ও ৫ বছর। এখানে বিনিয়োগের কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই। এই অ্যাকাউন্ট ব্যাংকেও খোলা যায়।

ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট– এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ বছরে জন্য টাকা রাখলে মিলবে ৬.৮ শতাংশ হারে সুদ৷ শর্ত মানলে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড়া দিচ্ছে ডাকঘর৷

কিষাণ বিকাশ পত্র– এটি পোস্ট অফিসের এমন একটি প্ল্যান যাতে, মাত্র ১২৪ মাসে আপনার জমানো টাকা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এই স্কিম আনা হয়েছে কৃষকদের জন্য। পোস্ট অফিসে কিষাণ বিকাশ পত্র স্কিমে মিলছে এই সুবিধা। এটি হল ভারত সরকারের এককালীন বিনিয়োগের স্কিম।

যেহেতু সরকারি সংস্থায় এই টাকা জমানো হচ্ছে, তাই খোয়া যাওয়ার কোনও ভয় নেই। দেশের সব পোস্ট অফিস এবং বড় ব্যাংকগুলিতে এই স্কিম রয়েছে।

বর্তমানে কিষাণ বিকাশ পত্রে (কেভিপি) বিনিয়োগে ৬.৯ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হয়। প্রতি তিন মাস অন্তর এই সুদের হার নির্ধারণ করা হয়। এই ৬.৯ শতাংশ হারে সুদ নির্ধারিত হয়েছে জুলাই মাসে। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের শুরুতে আবার এই হার পরিবর্তন হতে পারে।

সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা– এই যোজনা অনুযায়ী বিনিয়োগকারীরা আয়কর আইন অনুসারে ৮০সি ধারাতে ছাড় পাবেন। এছাড়াও বিনিয়োগের উপরে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনাতে বিনিয়োগকারীরা টাকা তাঁর কন্যা ১৮ বছর বয়সের আগে কোনভাবেই তুলতে পারবেন না।

তবে ১৮ বছরের পরেও বিনিয়োগকারীরা জমানো অর্থের ৫০ শতাংশ তুলতে পারবেন। বাকিটা তুলতে পারবেন কন্যা সন্তানের ২১ বছর বয়স হওয়ার পরে। প্রাথমিকভাবে সুকন্যা যোজনা সুবিধাজনক হলেও একটি জিনিস মনে রাখা দরকার তা হল সুকন্যা যোজনা হল সম্পত্তিগত বিনিয়োগ।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।