স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট বিল, ২০১৭-র মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! কারণ, সংবিধান প্রদত্ত যে অধিকার অনুযায়ী আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে সমতা বজায় থাকার কথা, তার বদলে এই বিলের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভেদ ঘটানো হয়েছে!

শুধুমাত্র তাই নয়৷ বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ‘শায়েস্তা’ করতে স্বাস্থ্য দফতর নিজের অধীনে রাখা মুখ্যমন্ত্রীর পেশ করা যে বিলটি শুক্রবার পাস হয়েছে, সেখানে সরকারি হাসপাতালের কোনও উল্লেখ নেই৷ যার জেরে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ গরিব এবং সাধারণ রোগী এবং তাঁদের পরিজনদের অধিকার খর্ব হবে৷ এমনই বিভিন্ন কারণে, এ বার আদালতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে চলেছে ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট বিল, ২০১৭! কেননা, এই বিলের আওতায় যদি সরকারি হাসপাতালগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, তা হলে এই বিলের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবে অনাবাসী ভারতীয় ডাক্তার কুণাল সাহার সংগঠন পিপল ফর বেটার ট্রিটমেন্ট (পিবিটি)৷

বেসরকারি হাসপাতালকে শায়েস্তা করতে হলে সরকারি হাসপাতালের মান বাড়াতে হবে

বামফ্রন্ট পরিচালিত রাজ্যের পূর্বতন সরকারের আমলের শেষের দিকে বিভিন্ন সময় এমনই দাবি করা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের ৭০ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করে থাকেন৷ অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্যের বর্তমান সরকারের আমলে আবার বিভিন্ন সময় এমনও দাবি করা হয়েছে যে, এ রাজ্যের ৭৬ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করে থাকেন৷ অথচ, ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট বিল, ২০১৭ অনুযায়ী, এ রাজ্যের ৭০ শতাংশেরও বেশি ওই সব মানুষের জন্য সংবিধান প্রদত্ত অধিকার খর্ব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! কেন?

পিবিটির সভাপতি ডাক্তার কুণাল সাহা বলেন, ‘‘এই বিল অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রে এই বিল প্রযোজ্য নয়৷ অথচ, পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সরকারি হাসপাতালগুলির উপর নির্ভরশীল৷ লক্ষ লক্ষ এই সব গরিব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যাঁরা সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত ভাবে চিকিৎসায় অবহেলার শিকার হয়ে চলেছেন, মা, মাটি, মানুষের সরকারের আমলে তাঁদের কি বেঁচে থাকার অধিকার নেই?’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই বিলের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলির সব দায়কে অব্যাহতি দেওয়ার কারণে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে রোগীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছে৷ এটা ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মধ্যে সমতা নিশ্চিতের বিষয়টি লঙ্ঘন করেছে৷ যদি না এই বিলের আওতায় সরকারি এবং বেসরকারি, উভয় হাসপাতালগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, তা হলে এই বিলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব৷’’
অনেক প্রত্যাশা জাগিয়ে শুক্রবার পাস হয়েছে ক্লিনিক্যাল এস্টাবিলশমেন্ট বিল, ২০১৭৷ তবে, এই বিলের সঙ্গে ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট, ২০১০-এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনও ফারাক নেই বলেও জানিয়েছেন পিবিটির সভাপতি৷ ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট, ২০১০-এর মতো ক্লিনিক্যাল এস্টাবিলশমেন্ট বিল, ২০১৭ শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই থেকে যাবে কি না, এবং, এ ভাবে বিল পাসের বিষয়টি ভোটব্যাংক সুরক্ষিত রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রাজনৈতিক চমক’ কি না, সেই বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ডাক্তার কুণাল সাহা৷