সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মাদার অ্যান্ড আর্থ নেচার থিম পার্কের স্রষ্টা তিনি। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষটি সবসময়েই কাজ করে চলেছেন সবুজের জন্য। বয়স আশি পেরিয়েছে। করোনার শুরু থেকেই তিনি মাঠে নেমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার যখন রাজ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, এবার আরও বেশি সতর্কতার প্রয়োজন। কিন্তু ভোটের গরম বাজারে সে সব শিকেয় উঠেছে। তাই তিনি রাস্তায় নেমে মাস্ক বিলি করছেন। প্রৌঢ় পরিমল দে বলছেন, ‘ভোট ফর মাস্ক।’

পরিমলবাবু এখন নিজেকে বলেন মাস্ক ম্যান। তিনি ভোটের প্রার্থী নন, কিন্তু ভোটে লড়ছেন। লড়ছেন মানুষের জীবন বাঁচাতে। প্রার্থী মানুষের জীবনের। বলছেন, ‘রাজনীতির ময়দানের মানুষদের মতো তিনি অমানবিক হতে পারবেন না। তবে লড়াই চলবে মানবিকতার স্বার্থে। মাস্ক ম্যানের লড়াই তাই মাঠে নেমে।

কীভাবে কাজ করছেন তিনি? প্রৌঢ় ভোটার থেকে শুরু করে সব রাজনৈতিক দলের কাছে গিয়ে প্রচার বলছেন, ‘ভোট বড় না জীবন বড়? ভাবুন প্লিজ।’ আবার এই ভোটে তাকে জেতালেই রয়েছে তাঁর হাতেনাতে পুরস্কার। আট থেকে আশি, মাস্ক পরলে মিলবে চকলেট।

সকলের কাছেই এই ভাবেই পায়ে হেঁটে ভ্যান রিক্সা গাড়িতে মাইক লাগিয়ে বুকের সচেতনতা বার্তা ঝুলিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন করোনাজয়ী বৃদ্ধ। প্রচার গাড়িতে বিলি করবার জন্য থাকছে সাড়ে চার হাজারের ওপর মাস্ক স্যানিটাইজার।

গত বছর একই ভাবে প্রকৃতি বাঁচানোর স্বার্থে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। আমফান ঝড়ে মৃত গাছ ও কেরালায় মৃত হাতির আত্মার শান্তি কামনা করেছিলেন তিনি।  কেরালায় হাতিকে ফলের ভিতরে বাজি পুড়ে খাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবাদ করেছিল মানুষ। তারপরেই আসে ভয়ঙ্কর আমফান। এসব দেখে পরিমল বাবু বলেছিলেন , ‘মানুষের হাতে মৃত হাতি, মানুষের হাতে ঘা খেতে খেতে বিপন্ন প্রকৃতি তার বদলা নিয়েছে। আমফান ঝড়ে সে ধ্বংস করেছে বহু। উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে বহু সবুজ।’

আশি পেরিয়ে যাওয়া বৃদ্ধ মাঠে নেমেছিলেন গাছ দাদু হয়ে। বলেছিলেন, ‘মৃত হাতি ও গাছের শরীরের শান্তি কামনা করার মতো তো কেউ নেই আশেপাশে। তাই তিনি নিজেই করেছিলেন প্রার্থনা। বেহালা সুরে ওঁদের জানালেন শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.