নয়াদিল্লি: অন্যতম বৃহৎ নেটওয়ার্ক ভোডাফোনের ভবিষ্যৎ যে ভারতে খুব একটা উজ্জ্বল নয়, সেই ইঙ্গিত আগেই মিলেছে। এবার ফের একবার ভোডাফোন জানাল যে ভারতের তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যদি ধার মেটাতে হয়, তাহলে তাদের পক্ষে সংস্থা চালানো সম্ভব হবে না।

প্রচুর আর্থিক বোঝা রয়েছে ভোডাফোনের মাথায়। সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ নিক রিড বলেন, একদিকে বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স, সুপ্রিম কোর্টের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের চাপে জেরবার ভোডাফোন। সব মিলিয়ে অবস্থা খুবই কঠিন বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

ভারতের ভোডাফোনের ক্ষতির পরিমাণ ৬৯২ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি। অথচ গত বছর এই একই সময়ে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৩৩ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ একধাক্কায় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে ক্ষতি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ৬ মাসে ১.৯ বিলিয়ন ইউরোর ক্ষতি হয়েছে ভোডাফোন-আইডিয়ার। সংস্থার তরফে সাহায্যের জন্য বারবার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

স্পেকট্রাম ব্যবহার ও লাইসেন্স ফি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতেই বিপদে পড়ে ভোডাফোন-আইডিয়া। এই সংস্থাকে বকেয়া প্রায় ১.৪ লক্ষ কোটি টাকার দেনা মেটাতে হবে টেলিকম দফতরকে। এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ভোডাফোন আইডিয়া-কে প্রায় ৩৯,০০০ কোটি টাকা দিতে হবে। ফলে, চলতি বছরে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য রাইটস্ ইস্যুর মাধ্যমে ভোডাফোন আইডিয়া যে ২৫,০০০ কোটি টাকা তুলেছিল, তার সবটাই চলে যাবে সরকারের দেনা মেটাতে। দু’বছর আগে ভোডাফোন ইন্ডিয়া ও আইডিয়া সেলুলার-এর সংযুক্তিকরণের ঘোষণার পর থেকে টানা লোকসান করে চলেছে ভোডাফোন আইডিয়া।

কিছুদিন আগেই একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভোডাফোন সব কিছু গোছ গাছ করে নিয়ে যে কোনও দিনই চলে যেতে পারে৷ এর কারণ হল সংস্থার ক্ষতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া এবং টেলিকম ক্ষেত্রে বাজারে এই সংস্থার অংশ কমে যাওয়ায়৷ এই দুটি কারণে ভোডাফোন আইডিয়ার ব্যালান্স শিটে প্রভাব পড়ছে এবং এই সংস্থাটি কোনও তহবিল তোলার ক্ষেত্রে বাধা পাচ্ছে ৷ এদিকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক কমে যাচ্ছে এই সংস্থার ৷

এরপরই এই টেলিকম সংস্থার তরফে বলা হয়, ভোডাফোন সাময়িক ভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন ঠিকই, তবে সে জন্য ঋণ কমানোর কোনও আবেদন কারও কাছে তারা করেনি। আর ভারত থেকে ব্যবসা বন্ধের রাস্তাতেও তারা হাঁটছে না বলে জানানো হয়।