প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মদিবস যখন বাংলা জুড়ে পালিত হচ্ছে, আর সেই সময়ই স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙার চেষ্টা করল দুষ্কৃতীরা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার ইছাপুর কদমতলা এলাকায়।

ইছাপুর কদমতলা মোড়ে উত্তর বারাকপুর পুরসভার পক্ষ থেকে চলতি বছরের ১৮ ই মার্চ স্বামী বিবেকানন্দের একটি পূর্নবয়ব আবক্ষ মূর্তি স্থাপিত হয়েছিল । উত্তর বারাকপুর পুরসভার বর্তমান পুর-প্রশাসক মলয় ঘোষ এই মূর্তিটি স্থাপন করেছিলেন। আর সেই মূর্তিটি রাতের অন্ধকারে ভাঙার চেষ্টা করেছে দুষ্কৃতীরা। এমনটাই অভিযোগ। মূর্তির বাইরের কাঁচের বাক্সটি দুষ্কৃতী হামলায় ভেঙে গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, গভীর রাতে তিনজন দুষ্কৃতী এই মূর্তি ভাঙার চেষ্টা করেছে। স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সেই ছবি ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। নোয়াপাড়া থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে ওই ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। আর এরপরেই এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ইছাপুর কদমতলা এলাকায়। পুলিশ এই ঘটনায় অন্য দুই অভিযুক্তের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ ।

এদিকে নোয়াপাড়া শহর তৃণমূল কংগ্রেস ও নোয়াপাড়া শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেস এই ঘটনার পর কদমতলা এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে জড়ো হয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।

নোয়াপাড়া শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি প্রসূন সরকার এদিন বলেন, এই মূর্তি আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভা প্রতিষ্ঠা করে ছিল। সেই মূর্তি বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে। মূর্তির বাইরে মোটা কাঁচের আস্তরণ থাকায় মূর্তিটি রক্ষা পেলেও কাঁচের আস্তরণটি ভেঙে যায় বলে জানিয়েছেন প্রসূন।

শুধু তাই নয়, বিজেপি অশিক্ষিত মূর্খের দল বলে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা। প্রসূন সরকার বলেন, বাংলার মনীষীদের কোন গুরুত্ব ওদের কাছে নেই। এর পিছনে বড় কোন মাথা জড়িত আছে। আমরা এই ঘটনার মূল মাথার গ্রেফতারি চাই। ইতিমধ্যে পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসূনবাবু।

তাঁর দাবি, পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে ঠিকই, বাকিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে তারাও ধরা পড়বে। এই বিষয় নিয়ে আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে আগামীদিনে নোয়াপাড়া এলাকা জুড়ে আন্দোলনে নামা হবে বলে জানিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা।

এদিকে এই ঘটনায় বিজেপির কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির বক্তব্য, রাতের অন্ধকারে কোন দুষ্কৃতীরা এই হামলা করেছে তা পুলিশ খুঁজে বের করুক। বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়া ওদের স্বভাব।

বিজেপির বারাকপুর জেলা সাংগঠনিক সভাপতি উমা শঙ্কর সিং বলেন, “বিজেপি কর্মীরা রক্ত দিয়ে হলেও বিবেকানন্দকে রক্ষা করবে । বিজেপির কোন কর্মী বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙতে পারে না । বিবেকানন্দের আদর্শে বিশ্বাসী বিজেপির প্রতিটি কর্মী । বিবেকানন্দকে যদি কাদায় রাখা হয়, আমরা তার পাশে দাঁড়াব, বিবেকানন্দকে বুকে আগলে রাখি আমরা । বিজেপির বিরুদ্ধে এসব তৃণমূলের অপপ্রচার ।”

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।