স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে সপ্তম অর্থাৎ শেষ দফার ভোট ১৯ মে৷ তার পাঁচ দিন আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর রোড শো-কে ঘিরে বিজেপি এবং টিএমসিপি সংঘর্ষে ধুন্ধুমার কলেজস্ট্রিট সংলগ্ন বিদ্যাসাগর কলেজ৷ অমিত শাহের রোড শো চলাকালীন বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে সংঘর্ষে জখম হয়েছে দু’পক্ষেরই বেশ কিছু সমর্থক৷ বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবেকে প্রশ্ন করা হল তিনি স্পস্ট জানিয়ে দেন৷ এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তের উপরই ভরষা রাখছেন তিনি৷

রাজ্যে এখনও জারী রয়েছে নির্বাচনী বিধি৷ আর সেই কারণেই ১৯ তারিখ অবধি রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অনেকটাই নির্বাচন কমিশনের হাতে৷ স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকরা বিবেকে দুবের কাছে জানতে চেয়েছিলেন বিদ্যাসাগর কলেজের সংঘর্ষে তিনি কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? উত্তরে বিবেক বলেন, ‘‘তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে৷ দেখা তদন্তে কী বেরিয়ে আসে৷’’

প্রসঙ্গত অমিত শাহের রোড শো থেকে অশান্তি ও মারোধোরের অভিযোগ এনে, আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। পাশাপাশি, জোড়াসাঁকো থানায় বিজেপির বিরুদ্ধে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও এফআইআর দায়ের করে বলে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর৷ ২টি এফআইআর জামিন অযোগ্য ধারায় করা হয়েছে৷

গতকালের ঘটনায় অভিযোগ, কলেজের মধ্যে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দেওয়া থেকে মারধোর, শ্লীলতাহানি হয়েছে৷ যার সঙ্গে বিজেপির কর্মী সমর্থকেরাই যুক্ত বলে তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ৷ যদিও সে অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি৷ দিলীপ ঘোষ একাধিক নেতা জানিয়েছে ভোটের মরশুমে বিজেপিকে বদনাম করতে নিজেরাই এসব করে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে তৃণমূল৷ সব মিলিয়ে ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা৷

এদিকে বুধবার যেখানে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলে নেমেছে অনেকেই, সেখানে এই ঘটনার দায় তৃণমূলের ওপরেই চাপালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ বুধবার সকালে দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘হেরে যাওয়ার ভয়েই এই কাজ করছে তৃণমূল৷ ভোট ব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে মমতা গুন্ডারাই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে৷’ অমিত শাহ আরও জানান, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে৷ কিন্তু এভাবে তাকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না৷