বীরভূম : চলতি বছরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ঐতিহ্যমণ্ডিত ‘পৌষ মেলা’। মেলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলে জানা গিয়েছে সূত্র মারফৎ। মঙ্গলবার রাতে এক বৈঠকের পর জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়ে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে এবছর মেলা নিয়ে উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন।

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি ধন্য এই পৌষ মেলা। মহর্ষি ‘ব্রাহ্ম’ ধর্ম গ্রহণ উপলক্ষে এই মেলার আয়োজন। সেই থেকে ইংরাজি সালের হিসেবে ১৮৪৩ সাল থেকে আয়োজন হয়ে আসছে মেলার। কিন্তু এবার আয়োজনের দায়ভার কে নেবে সেই নিয়ে দ্বন্দের জেরে প্রশ্ন উঠল ঐতিহ্যবাহী এই মেলার আয়োজন নিয়েই৷

এ বছরও ডিসেম্বরে বাংলা সালের তারিখের হিসেবে ৭ পৌষ মেলা অনুষ্ঠিত হবার কথা। সাত দিন ব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবার পৌষ উৎসবের অন্যান্য কাজ কর্ম যেমন উপাসনা, পরলোকগত আশ্রমিকদের স্মরণ, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন, সমাবর্তন, খ্রিস্টোৎসবের মত আচারগুলি পালন করা হলেও পৌষ মেলা পরিচালনার দায়িত্ব আর বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ নেবে না বলেই এদিনের বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছে তাঁরা। তাদের পক্ষে মেলার ব্যয়ভার বহন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিবেশ আদালত সহ দেশের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পালনীয় শর্তাবলী পূরণ করে এই বিশাল আয়তনের মেলা পরিচালনা করার পরিকাঠামো তাদের নেই। এই রকম একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বিজ্ঞপ্তিতেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, শান্তিনিকেতন ট্রাষ্টের পক্ষেও মেলা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাদের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, বিশ্বভারতীর সহযোগিতা ছাড়া তাদের একার পক্ষে এই বিরাট আয়তনের মেলা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে মেলা আয়োজিত হবে কিনা সেই নিয়ে রয়ে গেছে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা। আদৌ এই বছর মেলা হবে কিনা তা নিয়ে সেই নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে৷

২০১৫ সালের পৌষ মেলার পর জাতীয় পরিবেশ আদালতে মেলা নিয়ে প্রথম মামলা রুজু হয়। দূষণ এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় নানা রকম চেষ্টা করলেও এবছর ফের পরিবেশ আদালতে মামলা হয়েছে মেলা নিয়ে। এই বিষয়ে গত সোমবার অধ্যাপকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। সেখানে আলোচনা হয়, কোথাও এমন বলা নেই যে প্রত্যেক বছর মেলা পরিচালনা বিশ্বভারতীকেই করতে হবে। এমনকি মেলা থেকে যে টাকা আয় হিসেবে উঠে আসে সেই টাকা বিশ্বভারতীর তহবিলে জমাও পড়েনা। এই নিয়েই মঙ্গলবারও বৈঠক করেন উপাচার্য। সেখানেই সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।