স্টাফ রিপোর্টার, শান্তিনিকেতন: পৌষমেলা ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ অবশেষে কাটল। এর আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পৌষমেলা পরিচালনা থেকে সরে আসার কথা ঘোষণা করেছিলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। শেষমেষ সিদ্ধান্ত বদল করলেন তারা। শনিবার বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পৌষমেলা নিয়ে বৈঠক করেন উপাচার্য। সেখানে মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ফের আগের মতো বিশ্বভারতী থাকবে বলে জানিয়ে দেন তিনি।

শনিবার বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট, বিশ্বভারতী আধিকারিক সহ উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ও বিশ্বভারতীর কর্মী পরিষদ মেলা নিয়ে বৈঠকে বসেন। তাতে সিদ্ধান্ত হয় বিগত বছরের মতো একইভাবে পৌষমেলা করা হবে। বিশ্বভারতীর একটি সূত্র জানাচ্ছে, মেলার আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, মেলা শেষে স্টল ওঠানোর জন্য সিআইএসএফের সাহায্য নেওয়ার ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও করেছেন উপাচার্য স্বয়ং।

পৌষমেলায় মাত্রাতিরিক্ত দূষণ হচ্ছে। সেই অভিযোগ তুলে পরিবেশ আদালতে মামলা করেছিলেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। যার শুনানি এখনও চলছে। মামলা চলাকালীন গত জুন মাসের ৪ তারিখ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ নোটিশ জারি করে জানিয়ে দেয় তারা মেলা করতে পারবে না। তারপর থেকেই আদৌ পৌষমেলা হবে কি না সেই নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছিল। এ দিনের আলোচনায় ঠিক হয়েছে, পৌষমেলার স্টল বণ্টন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অনলাইনে করার জন্য খড়্গপুর আইআইটির কাছ থেকে কারিগরি সাহায্য নেবে বিশ্বভারতী। আইআইটি একটি সফটওয়্যার দিয়ে সাহায্য করবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেটি চালানোর জন্য পাঁচজনকে খড়্গপুরে প্রশিক্ষণে পাঠাচ্ছে বিশ্বভারতী।

বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার বলেন, পৌষমেলা নিয়ে প্রাথমিকস্তরে আলোচনা করা হল। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সমস্ত ধরনের লেনদেন অনলাইনে করা হবে। সমস্ত ধরনের টেন্ডারও ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমেই করা হবে। আগামীতে যে বৈঠক হবে সেখানে মেলার নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। এখন আমরা পরিবেশ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছি। কিন্তু, বিশ্বভারতী পরিবার মেলার জন্য সম্পূর্ণরূপে তৈরি।

এব্যাপারে পরিবেশবিদ সুভাষ দত্তর বক্তব্য, ‘ পৌষমেলা তো কেউ বন্ধ করতে বলেনি। আমার লক্ষ্য ছিল, পৌষমেলাকে একটা পরিবেশ-বান্ধব মেলার মডেল হিসেবে গড়ে তুলব। আমার প্রশ্ন, কেন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে তাঁরা পৌষমেলা না-করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন? আজ যদি তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কোনও নিয়ম মানতে না-পারেন, তাহলে কী বলবেন, বিশ্ববিদ্যালয় তুলে দেব?’