তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: পর্যটন শিল্পের বিকাশে অভিনব উদ্যোগ নিল বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসন। এক দিকে কর্মসংস্থান, এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অন্যদিকে বাইরে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ‘স্মৃতি চিহ্ন’ উপহার দিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন হল বিষ্ণুপুরী গেঞ্জি।

মল্লরাজাদের প্রাচীন রাজধানী এই বিষ্ণুপুর। মূলত মল্লরাজাদের তৈরি প্রাচীন টেরাকোটার মন্দিরের টানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাৎসরিক ‘বিষ্ণুপুর মেলা’ ছাড়া সেভাবে এতো দিন বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্য তুলে ধরার সরকারি উদ্যোগ চোখে পড়েনি। মহকুমা শাসক হিসেবে মানস মণ্ডল এখানে যোগ দেওয়ার পর একের পর এক অভিনব উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করছেন। বিষ্ণুপুরের নিজস্ব লোগো, তাঁত শিল্পীদের জন্য হাট, মোবাইল ছাড়া বিনোদনের জন্য ‘হ্যামলক’, সেলফি প্রতিযোগিতা, মন্দির সংস্কার, প্রতি শনিবার পোড়ামাটির হাট।

এবার নবতম সংযোজন বিষ্ণুপুরের প্রাচীন টেরাকোটার মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পের ছবি সম্বলিত গেঞ্জি। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা একেবারে সাধারণ মূল্যে পোড়ামাটির হাট থেকেই এই গেঞ্জি সংগ্রহ করতে পারবেন। আর এই গেঞ্জি বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্বাচিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে। এর ফলে ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা আর্থিক দিক থেকে যেমন স্বাবলম্বী হবেন, তেমনই এই গেঞ্জিকে কেন্দ্র করেই বিষ্ণুপুরের প্রচার ও প্রসার বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কি নেই এই গেঞ্জির গায়ে ছাপানো ছবিতে? মহকুমা প্রশাসন সূত্রে খবর, বিষ্ণুপুরের প্রাচীন মন্দির যেমন জোড়বাংলো মন্দির, মদনমোহন মন্দির, দলমাদল কামান, রাস মঞ্চ, লাল বাঁধ, বাসুদেবপুর চাতাল থেকে এখানকার একেবারে নিজস্ব লন্ঠন শিল্পও উঠে এসেছে ও আসবে এই গেঞ্জিতে।

মহকুমা প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি এখানকার সরকার স্বীকৃত গাইড, পর্যটক থেকে সাধারণ মানুষ। গাইড দেবাশীষ চট্টোপাধ্যায় ও কৃষ্ণচন্দ্র গোস্বামীরা বলেন, ‘‘যথেষ্ট প্রশংসনীয় এই উদ্যোগ। এতো দিন আমরা মানুষকে এখানকার প্রাচীন মন্দির, স্থাপত্য, ভাস্কর্য ঘুরিয়ে দেখিয়েছি। কিন্তু স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে তারা এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার মতো তেমন কিছু পেতেন না। এখন এখানে এসে যে কেউ চাইলেই সাধ্যের মধ্যে সাধ পূরণ এই বিষ্ণুপুরী গেঞ্জি সংগ্রহ করতে পারবেন।

মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুকোমলকান্তি দাসকে পাশে নিয়ে মঙ্গলবার এই গেঞ্জি উদ্বোধনের পর মহকুমা শাসক মানস মণ্ডল এই বিষয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘‘আমরা যখন কোথাও বাইরে বেড়াতে যাই, তখন দেখি সেখানকার ছবি, নাম-ধাম সম্বলিত গেঞ্জি বা জামা কাপড় বিক্রি হচ্ছে। স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে অনেকেই তা আগ্রহের সঙ্গে সংগ্রহ করেন। সেই পোশাক পরে মানুষ যখন বাইরে বেরোয়, তখন সেই জায়গাটি সহজেই প্রচারের আলোয় আসে। সেই জন্যই রাজ্য সরকারের তরফে বিষ্ণুপুরকে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’’

কিছুদিন আগে মহকুমা প্রশাসনের তরফে ‘লোগো’ প্রতিযোগিতা করা হয়েছিল। সেখান থেকে কিছু ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে বিষ্ণুপুরকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা, অন্যদিকে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান, দু’টোই এক সঙ্গে করা সম্ভব হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে মহকুমা শাসক বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে বারোটি ডিজাইনের গেঞ্জি মিলবে। আগামী দিনে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াবে বাহান্নতে।’’ একই সঙ্গে মানুষের আগ্রহ ও চাহিদার উপর নির্ভর করে বাকি বিষয়ের উপরেও আলোকপাত করা হবে বলে তিনি জানান।