নয়াদিল্লি: একদা নিজের অধিনায়ক অনিল কুম্বলেকে জাতীয় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যানের পদে দেখতে চান বীরেন্দ্র সেহওয়াগ৷ বীরুর মতে, এই মুহূর্তে জাম্বোই এই কাজের জন্য সব থেকে উপযুক্ত লোক৷ তবে সেহওয়াগ এও মনে করেন যে, বিসিসিআই নির্বাচকদের পারিশ্রমিকের অঙ্ক না-বাড়ালে কুম্বলে দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেবন কী না সন্দেহ৷ তাই বোর্ডের উচিত সিলেক্টরদের পারিশ্রমিক বাড়ানো৷ তা হলে বহু অভিজ্ঞ প্রাক্তন ক্রিকেটার নির্বাচক হওয়ার জন্য আগ্রহ দেখাতে পারে৷

একটি বাণিজ্যিক সংস্থার অনুষ্ঠানে এসে সেহওয়াগ বলেন, ‘আমার মনে হয় কুম্বলেই নির্বাচক প্রধানের পদে সব থেকে উপযুক্ত প্রার্থী হতে পারে৷ ও এমন একজন ব্যক্তি যে ক্রিকেটার হিসাবে সচিন, সৌরভ, দ্রাবিড়দের সঙ্গে মেলামেশা করেছে৷ আবার জাতীয় দলের বর্তমান ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোচ হিসাবে কাজ করেছে৷’

আরও পড়ুন: চাকিংয়ে অভিযুক্ত উইলিয়ামসন ও ধনঞ্জয়া

নিজের ক্রিকেটার জীবনের প্রসঙ্গ টেনে বীরু আরও বলেন, ‘যখন আমি কুম্বলের নেতৃত্বে জাতীয় দলে কাম ব্যাক করি (২০০৭-০৮ অস্ট্রেলিয়া সিরিজে), তখন ও আমার ঘরে এসে বলেছিল যে, পরের দু’টো সিরিজে তোমাকে বাদ দেওয়া হবে না৷ ক্রিকেটারদের ঠিক এরকমই আত্মবিশ্বাস দরকার হয়৷’

নির্বাচকদের পারিশ্রমিক নিয়ে সেহওয়াগের বক্তব্য, ‘বিসিসিআই-এর উচিত নির্বাচকদের পারিশ্রমিকের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া৷ তাহলে অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটার নির্বাচক হওয়ার আগ্রহ দেখাবে৷ আমার মনে হয় না বার্ষিক ১ কোটি টাকায় কুম্বলের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচক হতে চাইবে৷’

আরও পড়ুন: হেডিংলি টেস্টে স্মিথকে বাইরে রেখেই দল ঘোষণা অস্ট্রেলিয়া’র

তিনি নিজে নির্বাচক হতে আগ্রহী কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সেহওয়াগ সপাটে ব্যাট চালান৷ তিনি বলেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমে কলাম লিখি, টেলিভিশনে বিশেষজ্ঞের চেয়ারে বসি৷ ধারাভাষ্যকার হিসাবেও কাজ করি৷ নির্বাচক হওয়া মানে বহু বাধা-নিষেধ চাপিয়ে দেওয়া হবে৷ আমার মনে হয় না আমি এত নিষেধাজ্ঞা পছন্দ করি বলে৷’

এমএসকে প্রসাদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচক কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে৷ পাঁচ নির্বাচকের মিলিত টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা মোটে ১৩টি৷ স্বাভাবিকভাবেই এমন লো প্রোফাইল নির্বাচকদের কোচ ও ক্যাপ্টেনের হাতের পুতুলে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে ভারতীয় ক্রিকেটমহল৷’

আরও পড়ুন: রিচার্ডসের মাঠে ধোনির রেকর্ডের সামনে কোহলি

শেষে স্বার্থের সংঘাত প্রসঙ্গে বীরুর মত, ‘স্বার্থের সংঘাত বিষয়টা আমার কাছে অত্যন্ত জটিল মনে হয়৷ আমি যদি নির্বাচক হই, তবে ক্রিকেট অ্যাকাডেমি চালানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে৷ তবে বুঝি না যে, জাতীয় কোচ হলে ব্যক্তিগত অ্যাকাডেমি চালাতে অসুবিধা কোথায়৷’