নয়াদিল্লি: ছ’ বছর আগে দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছেন৷ তবে আট বছর আগে আজকের দিনে টেস্ট ইনিংসের স্মৃতিচারণা করে ট্রোলড হলেন বীরন্দ্রে সেহওয়াগ৷ ১২ বছরের টেস্ট কেরিয়ারে ৮,৫৮৬ রান করে ভারতীয়দের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পাঁচ নম্বরে রয়েছেন বীরু৷

মার্চ, ২০১৩ হায়দরাবাদে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলেছেন সেহওয়াগ৷ কিন্তু আট বছর পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বার্মিংহ্যাম টেস্টে তাঁর ব্যর্থতার রেকর্ড তুল ধরলেন বীরু৷ আজকের দিনে অর্থাৎ ১২ অগস্ট, ২০১১ এজবাস্টন টেস্টে ‘কিং পেয়ার’ হয়েছিলেন সেহওয়াগ৷ টুইটারে বীরু লেখেন, ‘আট বছর আগে আজকের দিনে বার্মিংহ্যাম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমার স্কোর ছিল কিং পেসার৷ ইংল্যান্ড পৌঁছনোর দু’দিনের মধ্যে ১৮৮ ওভার ফিল্ডিং করার পর জোড়া শূন্য করে অজান্তেই আর্যভট্টকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেলি৷’

একজন সক্রিয় ইউজার হিসেবে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে তাঁর একাধিক মজার পোস্ট দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে নেটিজেনদের কাছে। এবার টুইটারে নিজেই নিজেকে ট্রোল করে বসলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ওপেনার বীরেন্দ্র সেওয়াগ। সোমবার টুইটারে ২০১১ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বার্মিংহ্যাম টেস্টে নিজের স্কোর তুলে ধরেছেন দিল্লির আগ্রাসী এই ওপেনিং ব্যাটসম্যান। ০-৪ ব্যবধানে সেবার ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিরিজ হেরেছিল ভারতীয় দল। সিরিজের প্রথম দু’টি ম্যাচে দলে ছিলেন না সেওয়াগ। কিন্তু এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টের আগে তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর জেটল্যাগ কাটিয়ে প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে ডাহা ব্যর্থ হন সেওয়াগ। শূন্য রানে স্টুয়ার্ট ব্রডের শিকার হয়েছিলেন বীরু।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও বদলায়নি চিত্রটা। ১৮৮ ওভার ফিল্ডিং করার দ্বিতীয় ইনিংসে ফের একবার শূন্য। এবারে অ্যান্ডারসনের ডেলিভারিতে গোল্ডেন ডাক হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন ডাকাবুকো ভারতীয় ওপেনার। ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও বার্মিংহ্যাম টেস্টে জোড়া ইনিংসে শূন্য রানের স্মৃতি এখনও ফিকে হয়নি তাঁর। অষ্টম বার্ষিকীতে তাই সোমবার ওই ম্যাচের কথা স্মরণ করে টুইট করেন নজফগড়ের নবাব৷

মজার ছলে সেওয়াগের আরও সংযোজন, ‘তোমার কাছে ব্যর্থ হওয়ার জিরো চান্স থাকলে তুমি কী করবে? সংখ্যার মাধ্যমে প্রমাণ করার সুযোগ থাকলে সেটাই করবে।’

সেওয়াগের এই মজার টুইট দেখে স্বাভাবিকভাবেই হাসির রোল ওঠে নেটদুনিয়ায়। শূন্যের আবিষ্কর্তাকে সম্মান জানিয়ে নিজের ব্যর্থতাকে নতুন মোড়কে পরিবেশন করার ঘটনায় প্রাক্তন ওপেনারের তারিফ করেন নেটিজেনরা। আর নিজেই নিজেকে ট্রোল করে এক নয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন টেস্ট ক্রিকেটে জোড়া ত্রিশতরানের মালিক। উল্লেখ্য, ওই ম্যাচে ইনিংস ২৪২ রানে পরাজিত হয় ভারত। কিন্তু সেওয়াগের টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ লিখেছেন, বেশ কিছুটা সময় লাগল বুঝতে। তবে আপনারই কেবল সাহস আছে ব্যর্থতার কথা ভাগ করে নেওয়ার।’ কেউ কেউ তো নার্ভাস নাইন্টিতে সেওয়াগের আত্মবিশ্বাসের রহস্য জানতে চেয়ে পালটা টুইট করেছেন।