রাঁচি: সারা দেশজুড়ে নয়, কেবলমাত্র নির্দিষ্ট পাঁচটি বড় স্টেডিয়ামে টেস্ট খেলতে চান বিরাট কোহলি। রোটেশন পলিশিতে বিসিসিআই দেশের প্রায় সব স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করে। বিষয়টি একেবারেই না-পাসন্দ ভারত অধিনায়কের। তিনি মনে করেন যে, ওয়ান ডে ও টি-২০ ক্রিকেটের ক্ষেত্রে রোটেশন পলিশি মেনে নেওয়া যায়। তবে টেস্ট ক্রিকেট নির্দিষ্ট কয়েকটি শহরে খেলা হওয়া উচিত। সেটা শুধু দর্শক সমাগমের জন্যই নয়, বরং কোন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে এবং কী ধরণের পিচে খেলতে হবে, সে সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় আগে থেকে।

ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলি হাতেগোনা কয়েকটা কেন্দ্রেই টেস্ট আয়োজন করে। ইংল্যান্ড লন্ডনের লর্ডস ও ওভাল ছাড়া টেস্ট খেলে বার্মিংহ্যাম, ম্যাঞ্চেস্টার, লিডস ও নটিংহ্যামে। অস্ট্রেলিয়া টেস্ট খেলে মেলবোর্ন, সিডনি, অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন, পার্থ ও হবার্টে।শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মতো দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডেও নির্ধারিত থাকে বিশেষ কোন টেস্ট কোথায় আয়োজন করা হবে। যেমন ওভালে সবসময় মরশুমের শেষ টেস্ট খেলা হয়। মেলবোর্নে ও ডারবানে খেলা হয় বক্সিং-ডে টেস্ট। কেপটাউন ও সিডনিতে খেলা হয় নিউ ইয়ার টেস্ট।

ঠিক এরকমই দেশের শক্তিশালী টেস্ট কেন্দ্রগুলিতে দীর্ঘতম ফর্ম্যাটের ম্যাচ আয়োজনের হয়ে সওয়াল করলেন কোহলি। যদিও কোন কোন শহরে টেস্ট আয়োজন করা উচিত, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বলেননি ভারত অধিনায়ক। রাঁচি টেস্টে জয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বিরাটের কাছে জানতে চাওয়া হয় মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, দিল্লী ও চেন্নাইয়ের মতো ট্র্যাডিশনাল কেন্দ্রগুলিতে টেস্ট খেলা উচিত কিনা। জবাবে বিরাট বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা করে আসছি। আমার মনে হয় শুধু পাঁচটি বড় স্টেডিয়ামেই টেস্ট খেলা উচিত।’

কোহলি আরও বলেন, ‘রাজ্য সংস্থাগুলোর স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বোর্ডের রোটেশন নীতিকে আমি সমর্থন করি। তবে সেটা শুধু টি-২০ ও ওয়ান ডে’র ক্ষেত্রে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। টেস্টের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু অন্যরকম। যে দল খেলতে আসে, তাদের জানা উচিত কোন পরিস্থিতিতে ও কী ধরনের পিচে তাদের খেলতে হবে। সেখানকার দর্শকদের সমর্থন ও আচরণের বিষয়েও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।’

আসলে নতুন টেস্ট কেন্দ্রগুলি ছোট শহরে অবস্থিত হওয়ায় মাঠে তেমন একটা দর্শক চোখে পড়ে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজের তিনটি ম্যাচ এমন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত‌হয়, যাদের টেস্ট আয়োজনের খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই। গ্যালারিতে দর্শকও চোখে পড়েনি তেমন একটা।