সিডনি: চার-চারটি শতরান সহ ৬৯২ রান। গড় ৮৬.৫। ২০১৪-১৫ মরশুমে শেষবার ক্যাঙ্গারুর দেশে টেস্ট সিরিজে বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ের সার্বিক পরিসংখ্যান ছিল খানিক এমনটাই। ০-২ ব্যবধানে ভারতকে সিরিজ হারতে হলেও বিরাট ছিলেন স্বমহিমায়। এমনকি প্রথম এবং শেষ টেস্টে অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্বও সামলাতে হয়েছিল তাঁকে। প্রথম টেস্টে মহেন্দ্র সিং ধোনির চোট এবং শেষ টেস্টের আগে পাঁচদিনের ক্রিকেট থেকে মাহির হঠাৎই অবসর ঘোষণায় কোহলির উপরই বর্তায় নেতৃত্বের ব্যাটন।

তবে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রেক্ষাপটটা একটু আলাদা। পয়লা নম্বর টেস্ট টিমের ব্যাটন এখন পাকাপাকি ভাবে কোহলির হাতেই ন্যস্ত। স্মিথ-ওয়ার্নার নির্বাসনের কারণে না থাকায় প্রতিপক্ষ দলের ভিতটাও নড়বড়ে। তবে কোহলি কিন্তু আছেন সেই কোহলিতেই। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফেভারিট হিসেবে শুরু করতে চলা ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বের পাশাপাশি দলের ব্যাটিং বিভাগের ব্যাটনটাও থাকবে কোহলির হাতেই।

ডনের দেশে আবার মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকরকে ছাপিয়ে যাওয়ার হাতছানি বিরাটের সামনে। অজিদের ডেরায় পাঁচদিনের ক্রিকেটে পাঁচটি শতরান করে সুনীল গাভাস্করকে আগেই ছুঁয়েছিলেন বিরাট। আর দুটি শতরান করে এবার সচিনকে ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ তাঁর সামনে। এযাবৎ ছ’টি শতরান করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক মাস্টার ব্লাস্টারই। আর সেজন্য অ্যাডিলেড, পারথ, মেলবোর্নে এবং সিডনিতে আটটি ইনিংস বরাদ্দ থাকছে কোহলির জন্য।

এত পারমুটেশন-কম্বিনেশন কিংবা সম্ভাবনার ডালি নিয়ে টেস্ট সিরিজে অভিযান শুরু করবে ভারতীয় দল এবং তাদের অধিনায়ক। তবু অজিদের সম্মুখসমরে হওয়ার আগে এতটুকু চাপে নেই ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টার বয়। সিডনির এক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত অধিনায়ক জানান, ‘কারও কাছে আমার নিজেকে প্রমাণ করার কিছু নেই। মাঠে একশো শতাংশ দিতে আমি সবসময় মুখিয়ে থাকি।’ অজি সফরের বাড়তি চাপ নিয়ে বলতে গিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ২৪ শতরানের মালিক বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে আলাদা করে কোনও চাপ অনুভব করি না। বরং প্রত্যেক সফর, প্রত্যেক সিরিজ, প্রত্যেক ম্যাচ থেকেই আলাদা করে কিছু শেখার রয়েছে।’

নিজের ব্যাটিংয়ের প্রতি তাঁর আস্থা শেষবার অস্ট্রেলিয়া সফরের তুলনায় আরও বেড়েছে বলেই মত বিরাটের। তাই নতুন করে কারও কাছে নিজেকে প্রমাণ করার কিছু নেই বলেই জানান ভারত অধিনায়ক। বিরাটের আরও সংযোজন, দল আমার থেকে একশো শতাংশ আশা করে। সুতরাং দলকে সেটা ফিরিয়ে দিতে পারলেই আমি খুশি।

শেষবার সিরিজ হারলেও অজিদের ডেরায় এবারই সেরা সুযোগ ভারতীয় দলের। এমনটাই মত প্রাক্তনদের। তবু ঘরের মাঠে স্মিথ-ওয়ার্নারহীন অস্ট্রেলিয়াকে সমীহ করছেন বিরাট। সেরা সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে ভারত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জিততে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার। আগামী ৬ ডিসেম্বর অ্যাডিলেড ওভালে শুরু হচ্ছে ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট।