মুম্বই: সালটা ২০০৬। মাত্র আঠারো বছর বয়সে দিল্লির হয়ে রঞ্জি খেলার মাঝেই হার্ট-অ্যাটাকে বাবার মৃত্যু সংবাদটা পেয়েছিলেন। দলকে বিপদের মধ্যে ফেলে তিনি ফিরে আসেননি। বাবার সম্মানেই চালিয়ে গিয়েছিলেন খেলা। তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে রীতিমতো দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির এই উদাহরণ। সুযোগ পেলেই তাঁর ক্রিকেটজীবনে বাবা প্রেম কোহলির অবদান বারংবার অবতারণা করেছেন আধুনিক ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যান।

রবিবার পিতৃ দিবসে তাই অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন পোস্ট করলেন ‘দিল্লি বয়’। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবার সঙ্গে ছেলেবেলার একটি ছবি পোস্ট করে কোহলি লিখলেন, ‘এই পিতৃ দিবসে আমি সকলের কাছে আর্জি জানাচ্ছি প্রত্যেকে যেন তাদের বাবাদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। জীবনের পথে তারা যেন সবসময় সামনের দিকে তাকায়। জীবনে কখনও পিছন ফিরে তাকিও না। সশরীরে তারা তোমার সঙ্গে থাকুক কিংবা নাই থাকুক সবসময় জানবে বাবারা সবসময় তোমার উপর লক্ষ্য রেখে চলেছেন।’

ক্রিকেটকে কোহলির পেশাদার কেরিয়ার বেছে নেওয়ার পিছনে তাঁর বাবা প্রেম কোহলির অবদান কী, সেটা বারবার প্রকাশ পেয়েছে কোহলির ছোটবেলার কোচ রাজকুমের শর্মার কথায়। বাবা এবং দাদার হাত ধরেই কোহলির ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে আসা। কোহলিও বারবার বলেছেন বাবার জন্যই ক্রিকেটকে কেরিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ হয়েছে অনেক।

গতবছর এক প্রোমোশনাল ইভেন্টে কোহলি বলেছিলেন, ‘জীবনে অনেক মানুষ তোমায় অনুপ্রেরণা জোগাবে। কিন্তু কেউ কেউ এমন কিছু উদাহরণ রেখে যায় যার প্রভাব আমাদের জীবনে আলাদা মানে রাখে। আর এই কারণেই আমার বাবা আমার কাছে সুপার হিরো। তাঁর সিদ্ধান্তের জন্যই আমার কেরিয়ারের পথটা অনেক সহজ হয়েছে। আমি পরিশ্রম করে শুধু সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছি। আমি যদি সফল হই তাহলে এভাবেই আমার উত্তরণের পথটা লেখা ছিল। আর যদি সফল না হতে পারি তবে আমার চেষ্টার ত্রুটি ছিল। আমি আজ যেটুকু হতে পেরেছি শুধু বাবার জন্য। কারণ পুরো বিষয়টাই আমার চোখের সামনে ঘটেছিল তাই উনিই আমার সুপার হিরো।’

কোহলি ছাড়াও আন্তর্জাতিক পিতৃ দিবসে আবেগঘন পোস্ট করেছেন দেশের অন্যান্য ক্রীড়াবিদরা। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য সচিন তেন্ডুলকর, হরভজন সিং, শুটার হিনা সিন্ধু, জাতীয় হকি দলের গোলরক্ষক পিআর শ্রীজেশ প্রমুখ। বাবা রমেশ তেন্ডুলকরের সঙ্গে পুরোনো অ্যালবাম থেকে একটি ছবি পোস্ট করে মাস্টার-ব্লাস্টার এদিন লিখেছেন, ”আজীবন তোমার মহামূল্যবান উপদেশ পাথেয় করেই আমি চলব বাবা ‘জীবনে ভালো মানুষ হওয়ার জন্য সংগ্রাম করো’। ধন্যবাদ সবকিছুর জন্য। শুভ আন্তর্জাতিক পিতৃ দিবস।”

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব