নয়াদিল্লি: নয় নয় করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আঙিনায় বিরাট কোহলি পার করে ফেললেন ১১ বছর। টিন-এজ সদস্য থেকে দলের নেতৃত্বের ব্যাটন। ১৮ অগাস্ট, ২০০৮ ডাম্বুলায় অভিষেক ওয়ান-ডে ম্যাচে ১৮ রানে ফিরেছিলেন প্যাভিলিয়নে। আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে প্রথম একবছর ছিল না কোনও সেঞ্চুরি। তবু নিঃশব্দে স্বপ্ন ধাওয়া করে ফিরেছেন অধুনা ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টার বয়।

কেরিয়ারে দীর্ঘ সময়ে এসেছে অনেক চড়াই-উতরাই। তবু কোহলি সবসময় চেষ্টা করে গেছেন তাঁর কভার ড্রাইভের মতোই নিখুঁত থাকতে। স্মৃতির সরণি বেয়ে কেরিয়ারের একাদশ বর্ষপূর্তিতে হয়তো ভিড় করে আসছিল অনেক কথাই। তাই সুদূর ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে বসে এমন দিনে অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা রাখলেন ‘দ্য রানমেশিন’। সোমবার সকাল-সকাল কোহলির আবেগঘন সেই বার্তায় মিশে ছিল মূল্যবান উপদেশও।

কেরিয়ারের একাদশ বর্ষপূর্তিতে ভারতের দলনায়ক টুইটারে লিখলেন, ‘টিন-এজার হিসেবে ২০০৮ এই দিনে যাত্রা শুরু করার ১১ বছর পর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারকে ফিরে দেখা। ঈশ্বর আমাকে যা আশীর্বাদ দিয়েছেন তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। সঠিক পথ খুঁজে নাও। তোমরাও তোমাদের স্বপ্ন ধাওয়া করার শক্তি সঞ্চয় করো।’ মূল্যবান বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি কোহলি এদিন ২০০৮ ও বর্তমান সময়ে নিজের দু’টি ছবি পাশাপাশি শেয়ার করেন।

কেরিয়ারের প্রথম বছর সেঞ্চুরিহীন থাকার পর ২০০৯ ইডেন গার্ডেন্স। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শতরান এসেছিল কোহলির উইলো থেকে। এরপর আর বিশেষ ফিরে তাকাতে হয়নি। যত দিন গেছে তত কোহলির ব্যাট সমৃদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেটকে। ২০১১ থেকে ওয়ান-ডে ক্রিকেটে প্রত্যেক ক্যালেন্ডার ইয়ারে এখনও অবধি ১ হাজারের বেশি রান এসেছে বিরাটের ব্যাট থেকে (২০১৫, ২০১৬ বাদে)। ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে সদ্য-সমাপ্ত ওয়ান ডে সিরিজেও জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আপাতত ৪৩টি ওয়ান-ডে সেঞ্চুরি তাঁর নামের পাশে। আর ৭টি সেঞ্চুরি হাঁকালেই টপকে যাবেন কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরকে। যা কেবল সময়ের অপেক্ষা।

 

পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটেও বিরাটের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ২৫টি শতরান। দেশকে একাধিক ক্ষেত্রে স্মরণীয় জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার নিরিখেও বিরাটের ব্যাটে ফুলঝুরি। কোহলি বলেন ২০১২ আইপিএল মরশুম ও ২০১৪ ইংল্যান্ড সফর ব্যাটে রানের খরা কেরিয়ারে তাঁকে শিক্ষা দিয়েছে অনেককিছুই।

অনুর্ধ্ব-১৯ অধিনায়ক হিসেবে দেশকে বিশ্বকাপ দিলেও সিনিয়র দলের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক বিশ্বকাপে সেই স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তাই বিশ্বের অন্যতম ফিট অ্যাথলিট কোহলি আগামিদিনে তাঁর অধরা স্বপ্ন ধাওয়া করতে নিশ্চিতভাবে পিছপা হবেন না। আর সেই স্বপ্নপূরণ করতে গিয়েই ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক কোহলি বিরাজ করুন উচ্চতার আরও শিখরে, এমনটাই প্রত্যাশা।