পোর্ট অফ  স্পেন: কুইন্স পার্ক ওভালে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ভারতকে ম্যাচ তথা ওয়ান ডে সিরিজ জেতালেন বিরাট কোহলি৷ পোর্ট অফ স্পেনে টিম ইন্ডিয়ার অত্যন্ত কঠিন একটা লক্ষ্যমাত্রা ঝুলিয়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷ অধিনায়কোচিত দৃঢ়তায় সেই কঠিন কাজটাকে অতি সহজে করে দেখালেন বিরাট৷

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫ ওভারে কমে দাঁড়ানো ম্যাচে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ২৪০ রান তোলে৷ পরিচিত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরি করেন ক্রিস গেইল৷ তাঁকে যোগ্য সহায়তা করেন এভিন লুইস ও নিকোলাস পুরান৷ খলিল আহমেদ খরুচে প্রমাণিত হলেও দলের হয়ে সব থেকে বেশি উইকেট তোলেন৷

আরও পড়ুন: ভারত সফরে প্রোটিয়াদের নেতা ডি’কক

ক্যারিবিয়ান ইনিংসের মাঝপথে প্লেয়িং কন্ডিশন বদলে যাওয়ায় ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২৫৫৷ জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫ বল বাকি থাকতেই অর্থাৎ ৩২.৩ ওভারে ৪ উইকেটের বিনিময়ে ২৫৬ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায় ভারত৷ অপরাজিত শতরান করেন কোহলি৷ দলনায়ককে সঙ্গ দিয়ে অনবদ্য হাফসেঞ্চুরি করেন শ্রেয়স আইয়ার৷ ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ছাড়া নজর কাড়া বোলিং করতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর কেউই৷

তৃতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে ৬ উইকেটের ব্যবধানে জয়ের সুবাদে ভারত তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজের দখল নেয় ২-০ ব্যবধানে৷ জর্জটাউনে সিরিজের প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল৷ উল্লেখ্য, ওয়ান ডে সিরিজের আগে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে ক্যারিবিয়ানদের ৩-০ ব্যবধানে পরাস্ত করেছে টিম ইন্ডিয়া৷

আরও পড়ুন: দ্বীপরাষ্ট্রের ঘূর্ণিঝড়ে কিউয়ি তরি’র কাণ্ডারি টেলর

ক্রিস গেইল সম্ভবত তাঁর কেরিয়ারের শেষ ওয়ান ডে ম্যাচে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৩০ বলে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন৷ শেষমেশ ৮টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৪১ বলে ৭২ রান করে আউট হন দ্য ইউনিভার্স বস৷ এভিন লুইস আউট হন ২৯ বলে ৪৩ রান করে৷ তিনি ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন৷

এছাড়া শাই হোপ ৫২ বলে ৫২ বলে ২৪, হেটমায়ার ৩২ বলে ২৫, নিকোলাস পুরান ১৬ বলে ৩০, হোল্ডার ২০ বলে ১৪ ও ব্রাথওয়েট ১৪ বলে ১৬ রান করে আউট হন৷ ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ৬ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন৷ খাতা খোলার সুযোগ হয়নি কীমো পলের৷

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের যুব দলের কোচ হতে চেয়ে আবেদন সাকলিনের

ভারতের হয়ে খলিল আহমেদ ৬৮ রানে ৩টি ও মহম্মদ শামি ৫০ রানে ২টি উইকেট দখল করেন৷ এছাড়া ১টি করে উইকেট নিয়েছেন যুবেন্দ্র চাহাল ও রবীন্দ্র জাদেজা৷ উইকেট না-পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান খচর করেন কেদার যাদব৷

পালটা ব্যাট করতে নামা ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা যথাযথ হয়নি৷ ওপেনার রোহিত শর্মা মাত্র ১০ রান করে দূর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন৷ তবে শিখর ধাওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে কোহলি প্রাথমিক বিপর্যয় রোধ করেন৷ ধাওয়ানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে বিরাট ৬৬ রান যোগ করেন৷ ধাওয়ান ৩৬ বলে ৩৬ রান করে আউট হন৷ চার নম্বরে ব্যাট করতে এসে আরও একবার ব্যর্থ হন ঋষভ পন্ত৷ তিনি ক্রিজে এসে প্রথম বলেই আউট হয়ে বসেন৷

আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত লর্ডসে অ্যাসেজ টেস্টের প্রথম দিনের খেলা

গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও শ্রেয়স আইয়ার কোহলির সঙ্গে জুটি বাঁধেন৷ দু’জনে মিলে ১২০ রান যোগ করার পর আইয়ার ফেরেন ব্যক্তিগত ৬৫ রানে৷ ৪১ বলের ইনিংসে শ্রেয়স ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন৷ ৪৮ বলে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা বিরাট ইতিমধ্যে তিন অঙ্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে যান ৯৪ বলে৷ ভারত অধিনায়কই কেদার যাদবকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন৷ বিরাট ৯৯ বলে ১১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন৷ কেদার নটআউট থাকেন ১২ বলে ১৯ রান করে৷ কোহলি মোট ১৪টি বাউন্ডারি মারেন৷ কেদার মারেন ১টি চার ও ১টি ছক্কা৷ ফ্যাবিয়ান অ্যানের ২টি উইকেট নেন৷ ম্যাচের সেরার পাশাপাশি সিরিজের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও ওঠে কোহলির হাতে৷