ইন্দোর: বিরাট কোহলি আর রেকর্ড যেন হরিহর আত্মা। হোলকার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতে ক্রিজে তাঁর মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ মিনিট। ব্যাট হাতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ছাপিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বমোট রান সংগ্রহের নিরিখে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের তালিকায় নিজেকে সপ্তমস্থানে তুলে নিয়ে আসার সুযোগ ছিল বিরাটের কাছে। কিন্তু মাত্র দু’বল ফেস করে রানের খাতা না খুলেই ইন্দোরে আবু জায়েদের শিকার হন তিনি।

সুতরাং, ব্যাট হাতে নবনিযুক্ত বোর্ড সভাপতির রেকর্ড ভাঙার সুযোগ না হলেও অধিনায়ক হিসেবে একটি নজির গড়ে ফেললেন ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টার বয়। ইনিংস জয়ের নিরিখে এতদিন ভারত অধিনায়ক হিসেবে ধোনির ঝুলিতে ছিল সর্বাধিক ৯টি জয়ের নজির। রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ইনিংস ২০২ রানে জিতে ধোনির সেই নজির স্পর্শ করেছিলেন বিরাট। আর শনিবার হোলকার স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ১৩০ রানে হারিয়ে অধিনায়ক হিসেবে ধোনির নজির ভেঙে নয়া নজির সেট করলেন বিরাট। অর্থাৎ অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক ১০টি ইনিংস জয়ের মালিক হলেন টেস্ট ক্রিকেটে দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।

তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থস্থানে রয়েছেন প্রাক্তন দুই অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অধিনায়ক হিসেবে এই দু’জনের ঝুলিতে ছিল যথাক্রমে ৮টি ও ৭টি ইনিংস জয়ের নজির। শুধু ধোনির রেকর্ড ভাঙাই নয়, হোলকার স্টেডিয়ামে ধোনিকে ছাপিয়ে কিংবদন্তি প্রাক্তন অজি অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারকে ছুঁলেন বিরাট। বাংলাদেশকে হারানোর সঙ্গে সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে বর্ডারের ৩২টি টেস্ট জয়ের নজির এদিন স্পর্শ করলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

একইসঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট জয়ের নিরিখে যুগ্মভাবে তালিকায় চতুর্থস্থানে নিজেকে তুলে আনলেন তিনি। ৫৩টি টেস্ট জয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন প্রাক্তন প্রোটিয়া অধিনায়ক গ্রেম স্মিথ। ৪৮ ও ৪১টি টেস্ট জয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে আরও দুই প্রাক্তন অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিং ও স্টিভ ওয়া।

টস জিতে ইন্দোরে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মোমিনুল হক। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের দাপটে প্রথম ইনিংস মাত্র দেড়শো রানে গুটিয়ে যায় তাঁরা। জবাবে ময়াঙ্ক আগরওয়ালের দুরন্ত ডাবল সেঞ্চুরি এবং অজিঙ্ক রাহানে, চেতেশ্বর পূজারা ও রবীন্দ্র জাদেজার হাফ-সেঞ্চুরিতে পাঁচশোর দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় ভারত। যদিও বিরাট কোহালি, রোহিত শর্মা রান পাননি।

ময়াঙ্ক ২৪৩, রাহানে ৮৬, জাদেজা ৬০ এবং পূজারা৫৪ রান করেন। শুক্রবার সারা দিনে ৪০৭ রান তুলে ৬ উইকেটে ৪৯৩ রানে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে ভারত। জবাবে তৃতীয়দিন অর্থাৎ শনিবার দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৩ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের সেরা ময়াঙ্ক। দু’ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মহম্মদ শামি। আগামী ২২ নভেম্বর থেকে ইডেনে ঐতিহাসিক পিঙ্ক বল টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল।