পুণে: পুণে টেস্টের দ্বিতীয়দিন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির ব্যাটে নজিরের ফুলঝুরি। সপ্তম ডাবল টন হাঁকিয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বাধিক দ্বিশতরানের নজির তো গড়লেনই, সেই সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে ব্যাট হাতে ভাঙলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের অনন্য নজির। অধিনায়ক হিসেবে নবম ১৫০ বা তার বেশি রানের স্কোর করে প্রাক্তন অজি কিংবদন্তিকে টপকে গেলেন ভারত অধিনায়ক।

এর আগে অধিনায়ক হিসেবে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ঝুলিতে ছিল আটটি ১৫০ বা তার বেশি রানের স্কোর। ব্র্যাডম্যানের নজির ছাপিয়ে নিজেকে শীর্ষে তুলে আনার পর বছরের প্রথম শতরানকে এদিন দ্বিশতরানে পরিণত করেন বিরাট। সেইসঙ্গে সচিন তেন্ডুলকর-বীরেন্দ্র সেহওয়াগের ছ’টি দ্বিশতরানের নজির টপকে ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বাধিক সপ্তম দ্বিশতরানের নজির গড়েন ভারত অধিনায়ক। শুধু তাই নয়, এরপর পঞ্চম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ২৫০ রানের বিরাট ইনিংস খেলার নজির গড়েন কোহলি।

এর আগে ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই নজির ছিল সচিন তেন্ডুলকর, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং করুণ নায়ারের ঝুলিতে। এদিন মূলত বিরাটের ব্যাটে ভর করেই প্রথম ইনিংসে ৬০১ রানের বিরাট স্কোর খাড়া করে প্রথম ইনিংসে সমাপ্তি ঘোষণা করে ভারতীয় দল। ৩৩৬ বলে ২৫৪ রানে অপরাজিত থেকে যান ভারত অধিনায়ক। তাঁর ধ্রুপদী ইনিংস সাজানো ছিল ৩৩টি চার ও ২টি ছয়ে। কোহলির পাশাপাশি ৯১ রানের দুরন্ত ইনিংস আসে জাদেজার ব্যাট থেকে।

যদিও কোহলির ব্যাটে রেকর্ডের এখানেই শেষ নয়। ২৫৪ রানের ইনিংস খেলার পথে এদিন টেস্ট ক্রিকেটে ৭,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন বিরাট। বিশ্বের চতুর্থ ও তৃতীয় ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রুততম ৭,০০০ রানের ক্লাবে নাম লেখান ভারত অধিনায়ক। এর আগে ৭,০০০ রানের মাইলস্টোন ছুঁতে যথাক্রমে ১৩৪ ও ১৩৬ ইনিংস ব্যয় করেছিলেন বীরেন্দ্র সেহওয়াগ ও সচিন তেন্ডুলকর। দ্বিতীয়দিন চতুর্থ উইকেটে ডেপুটি আজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে ১৭৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ার পর পঞ্চম উইকেটে জাদেজার সঙ্গে ২২৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন বিরাট।

ব্যাটসম্যানদের গড়ে দেওয়া মঞ্চে দ্বিতীয়দিনের শেষে দাপট দেখান ভারতীয় পেসাররা। ভারতের ৬০১ রানের জবাবে দিনের শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৩৬। প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছেন ডিন এলগার, এইডেন মার্করাম ও তেম্বা বাভুমা। ২টি উইকেট নিয়েছেন উমেশ যাদব। দীর্ঘদিন বাদে পাঁচদিনের ক্রিকেটে কামব্যাক করে দক্ষিন আফ্রিকার দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে নজর কাড়লেন তিনি। ১টি উইকেট মহম্মদ শামির ঝুলিতে।