মুম্বই: বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ছাড়পত্র জোগাড় করে নিয়েছে টিম কোহলি৷ রোহিত শর্মার পাশাপাশি বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে রয়েছেন ভারত অধিনায়ক৷ পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরি এসেছে কোহলির ব্যাট থেকে৷ বিরাটকে রান-মেশিন অ্যাখ্যা দিলেও সচিন তেন্ডুলকরকেই তাঁর ফেভারিট বাছলেন ব্রায়ান চার্লস লারা৷

বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে ডি ওয়াই পাতিল ইউভার্সিটির ডক্টরেট ইন সায়েন্স অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি লারা বিরাট ও সচিনের তুলনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিরাট কোহলি রান মেশিন৷ কিন্তু খারাপ লাগলেও বলতে হচ্ছে সচিন তেন্ডুলকরই আমার ফেভারিট৷’ তবে বিরাটের প্রশংসা করতে ভোলেননি প্রাক্তন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক৷ লিগে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপে বিরাটের নেতৃত্বে সেমিফাইনালে জায়গা নিয়েছে ভারত৷ লিগে বিরাটদের শেষ ম্যাচ মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে৷

সচিনের সঙ্গে বিরাটের তুলনা পছন্দ না-হলেও এই মুহূর্তে বিরাট কোহলি যে অনান্যদের থেকে সহস্র জজন এগিয়ে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই বলে মনে করেন লারা৷ চলতি বিশ্বকাপে ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মার চারটি সেঞ্চুরি থাকলেও এবং জনি বেয়ারস্টোয়ের দুরন্ত ফর্ম থাকলেও তিন ফর্ম্যাটে বিরাট যে এদের থেকে অনেক রয়েছে বলেও জানান লারা৷ তিনি বলেন, ‘সব ফর্ম্যাটেই বিরাট কোহলির সঙ্গে বিশ্বের অনান্য ব্যাটসম্যানদের একটা হিউজ গ্যাপ রয়েছে৷’

চলতি বিশ্বকাপে রোহিত চারটি সেঞ্চুরি-সহ ৫৪৪ রান করে শীর্ষে রয়েছেন৷ আর পাঁচ হাফসেঞ্চুরি-সহ ৪০৮ রান করে আট নম্বরে রয়েছেন বিরাট৷ ক্যাপ্টেন হিসেবে বিশ্বকাপে টানা পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরি করে নজির গড়েন কোহলি৷ এই রেকর্ড বিশ্বের আর কোনও ক্যাপ্টেনের নেই৷ তবে বিশ্বকাপে টানা পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ড রয়েছে অজি ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথেরও৷ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হাফ-সেঞ্চুরি করতে পারলে স্মিথকে টপকে যেতে পারতেন কোহলি৷ কিন্তু মঙ্গলবার এজবাস্টনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ২৬ রান করে আউট হন কোহলি৷

বিরাটকে রান মেশিন বলেও সচিন যে ভারতীয় ক্রিকেটের মহীরুহ সে কথা জানাতেও ভোলেননি টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক লারা৷ তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে সচিনের প্রভাব অবিশ্বাস্য৷ কারণ একটা সময় ছিল, যখন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ঘরের মাঠে সেরা কিন্তু বিদেশে জিরো বলা হত৷ কিন্তু সচিন সেই ভাবনায় বদল এনেছে৷ আজকের দিনে ভারতীয় ব্যাটম্যানরা বিশ্বের যে কোনও পিচে সফল৷ আমার মনে হয়, বিশ্বের যে কোনও পিচে সফল হলে সচিন অন্যদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেছে৷’