বেজিং: করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জেরে বিপর্যস্ত গোটা দুনিয়া। প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে মৃত এবং আক্রান্তের সংখ্যা। হাহাকারের পারদ এখনও ঊর্ধ্বমুখী। আর এই অবস্থায় ক্রমশ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে চিনের জনজীবন।

‘চিন’ করোনাভাইরাসের উৎসস্থল। তেমনটাই দাবি আন্তর্জাতিক মহলের। যদিও অভিযোগ মারণ এই ভাইরাস সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য গোপন করে গিয়েছে চিন। যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে চিন।

আর এই অবস্থায় করোনার মতো মহামারী কাটিয়ে ক্রমশ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে চিনাবাসী। যা বিশ্বের অন্য দেশগুলির কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। যেখানে প্রতিনিয়ত সাক্ষাৎ মৃত্যু দূতের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন কোটি কোটি মানুষেরা। সেখানে মারণ ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চিনের এই জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ যথেষ্ট সন্দেহের বিষয় বটে।

চিন যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে তার প্রমাণ মিলছে, সেদেশের জনবহুল জায়গার বাজার ঘাট, দোকান, পার্ক ও রেস্তরাঁ খোলা দেখে। যদিও এটি চিনের সামগ্রিক চিত্র।

অন্যদিকে ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে, চিনের উহানসাং মাউন্টেন পার্ক। লকডাউনের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার পর্যটকদের কোলাহলে গমগম করত পার্ক চত্বর। এছাড়াও খুলতে শুরু করেছে, সাংহাইয়ের জনপ্রিয় ওয়াটার ফ্রন্ট পার্ক এবং এখানকার খাবারের দোকানগুলি।

শুধু তাই নয়, আপাতত চিনাদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে রাজধানী বেজিং এর সিটি পার্কও। যদিও চিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে নাগরিকদের করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় সাবধানতা অবলম্বন করে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারন, মার্চ মাসের পর গত এপ্রিলের ৫ তারিখ পর‍্যন্ত সেদেশে কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যায়নি। ফলে বিশ্বের অন্য দেশগুলি যখন করোনা মোকাবিলায় নাভিশ্বাস ফেলছে, তখন চিনা সরকারের কপালে স্বস্তির চিহ্ন।

যদিও বর্তমানে অনেক করোনা সংক্রামিত রোগী সেরে ওঠার পরেও নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে বা নতুন করে করোনা সংক্রামিত হছে। তবুও করোনা মোকাবিলায় তটস্থ চিনা প্রশাসন। ফলে গণপরিবহনের মাধ্যম এবং অন্যান্য জিনিস ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থে খুলে দেওয়া হলেও চিন সরকারে তরফে নাগরিকদের করোনা সম্পর্কে এখনও যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, করোনার মতো অতিমারী কাটিয়ে ওটার পরেও সেদেশের নাগরিকদের প্রকাশ্য রাস্তায় মাক্স ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাতে নতুন করে কোনও বিপর্যয় না ঘটে।