নয়াদিল্লি : কথায় বলে ‘মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু।’ শাশুড়ি-বৌমা, ননদ-বৌদি, দুই জা থেকে শুরু করে কলতলায় পাড়া-প্রতিবেশীর ঝগড়া-বিবাদ পরিচিত ঘটনা। কিন্তু তাই বলে নিজে একজন মহিলা হয়ে পাবলিক প্লেসে মেয়েদেরই ধর্ষণ করতে বলার ঘটনা বেনজির। এমন ঘটনাই এখন ভিডিও আকারে ভাইরাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেসবুক ওয়ালে।

এবার আসা যাক মূল ঘটনায়। ১০ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কালো ছাপা কুর্তি পরা এক বিবাহিত মাঝবয়সী মহিলাকে। রেস্তরায় যিনি খাবার কিনতে এসেছেন। তার পাশেই রয়েছেন কিছু অল্প বয়সী মহিলা। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিতর্কে জরিয়ে পড়েছেন তারা। বিতর্কের কারণ একটু স্পষ্ট হতেই বোঝা গেল, মহিলাদের পোশাক নিয়ে অসংবেদনশীল মন্তব্য করছেন তিনি। ঘটনাস্থল খোদ রাজধানী দিল্লি। সেখানে সোনহা রোডের নাক্কাদালা রেস্তরাঁয় কেনাকাটা করছেন এক মহিলা। তাঁর আশেপাশেই কেনাকাটা করছেন কয়েকজন কমবয়সী মেয়ে। তাদের অনেকেরই পরনে মিনিস্কার্ট। যা দেখে হঠাই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন প্রৌঢ়া। মিনিস্কার্ট পরা মহিলাদের দেখে তাদের উদ্দেশ্য করে মহিলাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “এত ছোট পোশাক পরে এসেছ, তোমাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ। তোমাদের ধর্ষণ হওয়া দরকার “

শুধু এতেই থেমে থাকেন নি তিনি। মেয়েদের দেখিয়ে রেস্তোরাঁর পুরুষ কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তাঁর বক্তব্য, ” ছোট পোশাক পরা এই ধরণের মেয়ে সামনে পেলেই আপনাদের ধর্ষণ করা উচিৎ।”

মহিলার এই বক্তব্যে প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন অনেকেই। সকলে ওই মহিলাকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জোর করতে থাকেন। কিন্তু নিজের বক্তব্য থেকে একচুলও সরতে দেখা গেলনা মহিলাকে বরং যারা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে যাওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

পুরো ঘটনাটি ক্যামেরা বন্দি করে রাখেন ঘটনাস্থলে থাকা ঘটনার শিকার হওয়া এক মহিলা শিবানী গুপ্ত। নিজের ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করে তিনি লেখেন , ” গত রাতে এক রেস্তোরাঁয় আমি এবং আমার বন্ধুরা চরম হেনস্থার শিকার হয়েছি এক মহিলার কাছে। আমি ছোট পোশাক পরে থাকায় রেস্তোরাঁয় থাকা সাতজন কর্মীকে দেখিয়ে যিনি আমাদের ধর্ষণ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন।”

প্রশ্ন উঠছে একবিংশ শতাব্দী তে দাঁড়িয়ে এক মহিলা হয়ে অন্য মহিলাদের প্রতি এই আচরণ কি ইঙ্গিত দেয় না এখনও কয়েক শতক পিছিয়ে রয়েছি আমরা! শিক্ষা আটকে আছে শুধুই পুঁথির ভাঁজে, মননে তার প্রবেশ এখনও যোজন খানেক দূরে!