সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : হীরক রাজার দেশের বিভিন্ন ক্লিপিং দিয়ে বিজেপি বিরোধী ভিডিও ভাইরাল হল সোশ্যাল মাধ্যমে। হীরক রাজার দেশে এমন একটি ছবি যা রূপক হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবাদের কথা বলে। তেমন ভাবেই বিজেপি সরকারকে এখানে দেখানো হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে এই দেশেতেই থাকবো গান, যা বিজেপি বিরোধী বলে ইতিমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছে। গানটি রিলিজ করার পর তৃণমূল, বাম দুই পক্ষই এই গান তাদের সোশ্যাল মাধ্যমে শেয়ার করেছিল।

হীরক রাজার দেশে বিখ্যাত সত্যজিৎ রায় পরিচালিত একটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। রুপকের আশ্রয় নিয়ে চলচ্চিত্রটিতে কিছু ধ্রুব সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি গুপী গাইন বাঘা বাইন সিরিজের একটি চলচ্চিত্র। এর একটি বিশেষ দিক হচ্ছে মূল শিল্পীদের সকল সংলাপ ছড়ার আকারে করা হয়েছে। তবে কেবল একটি চরিত্র ছড়ার ভাষায় কথা বলেননি। তিনি হলেন শিক্ষক। এ দ্বারা বোঝানো হয়েছে একমাত্র শিক্ষক মুক্ত চিন্তার অধিকারী, বাদবাকি সবার চিন্তাই নির্দিষ্ট পরিসরে আবদ্ধ।

গুপীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তপেন চট্টোপাধ্যায়, বাঘা চরিত্রে রবি ঘোষ, হীরক রাজা উৎপল দত্ত, উদয়ন পণ্ডিত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শুণ্ডীর রাজা সন্তোষ দত্ত, গবেষক সন্তোষ দত্ত, প্রহরী হয়েছিলেন কামু মুখোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত , এই দেশেতেই থাকবো সাড়ে ছ’মিনিটের একটি ভিডিয়ো। যা দেশে ‘মিথ্যা ও ঘৃণার চাষ বাড়লে কথা বলা’র বাধ্যবাধকতার কথা দিয়ে শুরু; যেখানে বৈচিত্র ও ভালবাসার দেশ ভারতে, সৌহার্দ্য, শান্তি ও বহুত্ববাদের ভূখণ্ড বাংলায় বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা দেখলেই রুখে দাঁড়াবার অঙ্গীকার। ‘শিবঠাকুরের আপন দেশে আইনকানুন সর্বনেশে’ বলে ভিডিয়োটির প্রকৃত শুরুয়াত।

যে-মুখগুলি দেখা যায়, তাঁদের মনোভাব পরিচিত, স্পষ্ট– রুদ্রপ্রসাদ, সব্যসাচী, অনির্বাণ, রূপঙ্কর, অনিন্দ্য, ঋদ্ধি, পরমব্রত, দেবলীনা। গোটা ভিডিয়োটি জুড়ে প্রয়োজনমতো দেখা যায় তাঁদের। আসলে ভিন্ন প্রজন্মকে গেঁথে নিয়ে একযোগে এই প্রতিবাদ। সব চরিত্রের ঠোঁটেই প্রাণ পায় গান। অনির্বাণের লিরিক্স, শুভদীপ গুহের কম্পোজিশনে প্রথম লাইনটিই ভাবায়– ‘তুমি পুরাণকে বলো ইতিহাস আর ইতিহাসকে বলো পুরনো’! তিরটা স্পষ্ট এবং তীক্ষ্ণ। নিজেদের ভালো নিজেদের মতো বোঝার যে ‘স্পেস’, সেই পরিসরটাই চায় যে কোনও মুক্ত মন, মুক্ত চিন্তা। এগোয় ভিডিয়ো। সেখানে ছেঁড়া হয় ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ ‘গো টু পাকিস্তান’, ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’, ‘অচ্ছে দিনে’র পোস্টার। সেখানে শহরের নানা ব্য়াকড্রপে শোনা যায় ‘আমি গোয়েবলসের আয়নায় ঠিক তোমাকেই দেখে ফেলেছি/এই হাঙরের দাঁত পুরনো, তাতে পোকা লেগে আছে দেখেছি’; কিংবা ‘তুমি মিথ্যেপুজোতে ব্যস্ত কোনও সত্যি লড়াইয়ে থাকোনি’; কিংবা ‘তুমি সব ধরনের অঙ্ক পাকিস্তান দিয়ে গুণ করেছে’। এ সবই হয়েছে তার কারণ, ‘তুমি বহু দূর বেড়ে গিয়েছ’।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।