আড্ডা প্রিয় বাঙালি লকডাউনে ঘরবন্দি। চা-কাকুকে নিয়ে যতই মজা করা হোক না কেন, বাঙালি কিন্তু অস্বীকার করতে পারবে না যে চায়ের দোকানে না যেতে পেরে তাঁদের প্রত্যেকেরই প্রাণ ওষ্ঠাগত। ফেসবুকে-ইনস্টাগ্রামে-নেটফ্লিক্সে সাময়িক আনন্দের সঙ্গে সেই ট্র্যাডিশনাল আড্ডার কোনও তুলনা হয় না। ইটালিয়ান ডিশে তো আর মাঝের ঝোলের সুখ নেই!

তবে ঘরবন্দি বাঙালিকে করোনা কালে নেগেটিভিটির মধ্যেও নিখাত আনন্দ জুগিয়েছে এক বাঙালি। যদিও আপাতত বিদেশের বাসিন্দা। তবে, বাঙালিকে একেবারে বাঙালির মনের মত করে আনন্দ দিচ্ছেন। মাধ্যম সেই ফেসবুক কিংবা ইউটিউব। কিন্তু তার মধ্যেও একেবারে ঘরোয়া বাঙালির মত করেই আনন্দ দিচ্ছেন ওয়াশিংটনের বাসিন্দা সুস্মিতা করণ। ভাইরাল ভিডিওতে তিনি সুজি পিসি। কয়েক মাসের মধ্যে বাঙালির ঘরে আদরের ‘পিসি’ হয়ে উঠেছেন তিনি। ৮ থেকে ৮০ প্রত্যেকের কাছেই যেন তিনি কাছের মানুষ।

চারপাশে যখন শুধু অসুখ আর মৃত্যুর খবর। রাস্তায় বেরলেই অদৃশ্য শত্রুর ভয়, তখন সুজি পিসির কয়েক মিনিটের ভিডিও মুখে হাসি ফোটাতে বাধ্য। বিদেশে থেকেও এভাবে বাঙালির কাছের মানুষ হয়ে ওঠার চাবিকাঠিটা কী?

সুস্মিতা বলছেন, বিদেশে থাকলেও আত্মায় বাঙালিয়ানা। বাংলা ভাষাই হোক বা বাঙালির প্রিয় পরনিন্দা-পরচর্চা, সবটাই তাঁর অস্থি-মজ্জায়। অনায়াসে গেয়ে ওঠেন রবি ঠাকুরের তাই বাঙালির মনের মত বিষয় নিয়ে মজা করাটা তাঁর কাছে কোনও কঠিন কাজ নয়।

মেদিনীপুরের মেয়ে সুস্মিতা জীবনের অনেকটা সময় কাঠিয়েছেন কলকাতায়। পরে বিয়ে হয়ে সোজা ওয়াশিংটন ডিসি। পরিবার থেকে দূরে গিয়ে কান্নাকাটিও করেছেন প্রথম প্রথম। পরে আর পাঁচজন এনআরাই-এর মতই সব কিছু মানিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসি-তে আই হসপিটালে কর্মরত তিনি। স্বামী ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করছেন। গবলা আর তবলা দুই ছেলেকে নিয়ে সংসার। আর তার মধ্যেও হাসির রসদ বাঁচিয়ে রেখেছেন নিজের মধ্যে।

সুস্মিতার কথায়, বর্তমানে প্রফেশনাল ইউটিউবাররা সাধারণত কমবয়সীদের জন্য কনটেন্ট বানান। কিন্তু সুস্মিতা জানেন, বাড়ির মা-পিসিরাও আজকাল ফেসবুকে যথেষ্ট অ্যাকটিভ। তাই তাঁদের জন্য কনটেন্ট দিচ্ছেন তিনি।

পাশাপাশি, কর্মরত মহিলাদের জন্যও তিনি ইন্সপিরেশন। ১০-১১ ঘণ্টা বাড়ির বাইরে থেকে, দুই ছেলে সামলেও সৃজনশীল কিছু করা যায়, সেটাই দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।