মালদহ: আদিবাসী অধ্যুষিত মালদহর হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জমজমাট উপনির্বাচন। সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন সিপিএম থেকে জয়ী হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক খগেন মুর্মু। বিজেপিতে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আর সেই কারণেই ১৯ মে অর্থাৎ রবিবার হতে চলেছে হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন।

এই বিধানসভা কেন্দ্রটি আদিবাসী অধ্যুষিত হয় হেভিওয়েট চার দলের প্রার্থী করা হয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের। এখানে বিজেপির প্রার্থী হয়েছে বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য জয়েল মুর্মু, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছে অমল কিস্কু, কংগ্রেসের প্রার্থী ওই এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সভাপতি রোজিনা মুর্মু পাশাপাশি সিপিএম প্রার্থী পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ সাধু টুডুকে।

শেষ দফার লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সঙ্গে রাজ্যের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। এবারে চতুর্মুখী লড়াই হতে চলেছে হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। মোট ভোটার ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১২১৪৫৯ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছে ১১৮৬০৫ জন। অন্যান্য ভোটার রয়েছে ৭ জন।

ভোট পড়েছিল ১৮৩৬০০টি। শতাংশ হারে ৮২.৩৬। এবছর ২৪৭ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। মডেল বুথের সংখ্যা ৬টি। এর মধ্যে তিনটি বুথে থাকছে ২৪ জন মহিলা কর্মী। ১১ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। প্রায় প্রত্যেকটি বুথেই থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী অমল কিস্কু ভোট পায় ৬১৫৮৩ টি, সিপিএম প্রার্থী খগেন মুর্মুর ভোট পায় ৬৪০৯৫টি, বিজেপির প্রদীপ বাস্কে ভোট পায় ৪১৫৫৬টি। এক্ষেত্রে তৃণমূলের অমল কিস্কু কাছে ২৫১২ ভোটে পরাজিত হন সিপিএমের খগেন মুর্মুর কাছে। তবে এবারে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি আদিবাসী অধ্যুষিত হয় প্রত্যেক দলই জেতার জন্য মরীয়া প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

আদিবাসী এলাকা হওয়ায় এখানে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও জলের বড় সমস্যা রয়েছে। এই এলাকাটি সীমান্ত লাগোয়া কৃষি প্রধান এলাকা। স্বাভাবিকভাবেই বর্তমানে এখানকার মানুষরা চাষের সুযোগ সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। সেই কারণে এই এলাকার মানুষ কাজের তাগিদে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয়।

এলাকার বাসিন্দা সাজিনা কিস্কু বলেন, পানীয় জল ও চাষের জলের একটা বড় সমস্যা রয়েছে। আমরা চাই অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সঙ্গে জল সমস্যা ও সমাধান চাই। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য স্কুল কলেজের ও প্রয়োজন রয়েছে। ভোটের প্রতিশ্রুতি অনেক মিলে কিন্তু ভোট পরবর্তী সময়ে কিছুই পাওয়া যায় না।

তৃণমূল প্রার্থী অমল কিস্কুর মতে, ভোটে জিতলে এলাকায় যে সমস্ত উন্নয়ন হয়নি সেই দিকে বিশেষ নজর দেব। সামান্য ভোটের ব্যবধানে এর আগেরবার হেরে গিয়েছিলাম। তাছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উন্নয়ন করেছে তাতে এখানকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে।

কংগ্রেস প্রার্থী রোজিনা মুর্মুর বক্তব্য, মালদহ জেলায় কংগ্রেস ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। তাই আদিবাসীদের উন্নয়ন হবে কংগ্রেসের হাত ধরে। সিপিএম প্রার্থী সাধু টুডু বলেন, এই এলাকায় কৃষকদের নিয়ে দীর্ঘদিন আমরা কাজ করেছি। এই এলাকার মানুষ আমাকে চেনে। সেই কারণে মানুষ এবার সিপিএমকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

জয়েল মুর্মু মতে, এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পঞ্চায়েত ভোটে জেলা পরিষদের সদস্য করে পাঠিয়েছেন। আদিবাসী এলাকায় বিজেপির প্রতি তাঁদের ভরসা রয়েছে। তাই আমাকে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী করে পাঠাবে মানুষ। আদিবাসী মানুষদের জন্য উন্নয়ন করতে পারে একমাত্র বিজেপি। তাই এই বিধানসভা কেন্দ্রে এবার আমার জয় নিশ্চিত। তাই এই বিধানসভা কেন্দ্রে রয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।