কলকাতা: ট্রাফিক দুর্ঘটনা কলকাতায় প্রায় অনবরতই ঘটে চলেছে। মধ্য রাতের বেপরোয়া গতি থেকে শুরু করে মদ্যপ অবস্থাতে গাড়ি চালানো নিয়ম ভাঙা তো প্রায়শই দেখতে পাওয়া যায়।

অনেকবার নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর ও হুঁশ ফেরেনি শহরবাসীর। আর এবার যাতে ট্রাফিক আইন নিয়ে সকলেই সতর্ক হন এবং তা মেনে রাস্তায় চলাচল করেন তা নিয়ে নয়া পদক্ষেপ নিল কর্তৃপক্ষ। আগামী মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাফিক আইনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাড়তে চলেছে জরিমানার পরিমাণ।

সূত্রের খবর, আগামী মাস থেকেই এই নতুন নিয়ম লাগু হতে চলেছে। এর ফলে মোটর ভেইকলস আইন বেশ কড়া ভাবে নতুন পদক্ষেপ নিল বলে মনে করা হচ্ছে । নতুন আইন প্রনয়নের ফলে ইমারজেন্সি গাড়ি ( অ্যাম্বুলেন্স) কে রাস্তা না দেওয়া হলে জরিমানার পরিমান বাড়তে চলেছে ১০০০০ টাকায় । এই একই জরিমানার পরিমান থাকছে অত্যধিক গতিযুক্ত গাড়িতে। ট্র্যাফিক আইন মানা না হলে এতদিন পর্যন্ত জরিমানার পরিমান ছিল ১০০ টাকা যা নতুন আইন প্রনয়নের ফলে বেড়ে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। অন্য যে কোন ধরণের ট্র্যাফিক আইন মানা না হলে জরিমানার পরিমান সর্বনিম্ন হচ্ছে ২০০০ টাকা।

লাইসেন্স না নিয়ে গাড়ি চালালে জরিমানার হাত থেকে বাঁচা যাবে না, নতুন নিয়ম অনুযায়ী সেক্ষেত্রে জরিমানার পরিমানার গিয়ে দাঁড়াবে ৫০০০ টাকা এবং ইনস্যুরেন্স এর কাগজ না নিয়ে ড্রাইভের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমানার গিয়ে দাঁড়াবে ২০০০ টাকায়। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে তো পরতে হবে কঠিন জরিমানাতে। এবং সেক্ষেত্রে জরিমানা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১০০০-২০০০ টাকা অবধি। সিট বেল্ট না বেঁধে গাড়ি চালালে জরিমানা হবে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। দু চাকার গাড়ির ক্ষেত্রেও জরিমানার হার বাড়বে। বিনা হেলমেট নিয়ে গাড়ি চালালে যা হবে প্রায় ১০০০ টাকা।

অত্যধিক পরিমানে ওজন বহন এবং লাইসেন্স জনিত নিয়ম না মানলে জরিমানার হার গিয়ে দাঁড়াবে ২০০০০ টাকা ও ১ ০০০০০ টাকা অবধি। মদ্যপ অবস্থাতে গাড়ি চালালে পরতে হবে ১০০০০ টাকা জরিমানার কোপে। সুতরাং মোটর আইন যে যে কড়া বার্তা দিতে চাইছে শহর বাসীকে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। অর্থাৎ গাড়ি দুর্ঘটনার হার কমানোর জন্য রাশ যে শক্ত হাতে প্রশাসন নিতে চাইছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।