তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: দলমার দামালদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবার আন্দোলনে নামলেন গ্রামবাসীরা। বৃহস্পতিবার সকালে বাঁকুড়া শহরের মাচানতলায় বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামিল হলেন গঙ্গাজলঘাটি, বড়জোড়া, বেলিয়াতোড় এলাকার অসংখ্য বাসিন্দা। হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান গ্রামবাসীরা। একইসঙ্গে হাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও মৃতদের পরিবারের সরকারি চাকরির দাবিতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা।

৭ দফা দাবিতে এদিন বন দফতরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন গ্রামবাসীরা। ময়ূরঝর্ণা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা, দলছুট হাতিদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, পূর্ব ঘোষণা মতো হাতির আক্রমণে মৃতদের সরকারি চাকরি, আক্রান্তদের পেনশন চালু, ফসলের ক্ষতিপূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির পুনঃনির্মাণ ও সেই ক্ষতিপূরণ ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরেই দক্ষিণ বাঁকুড়ার রানিবাঁধে দু’জন ও উত্তর বাঁকুড়ায় আরও দু’জনের হাতির আক্রমণে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া হাতির আক্রমণে চাষের ক্ষতি ও বাড়ি ভাঙচুরের বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এদিনের আন্দোলনে অংশ নিয়ে সম্পা পাল মণ্ডল নামে এক গ্রামবাসী জানান, ২০১৬ সালে হাতির আক্রমণে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়।

বর্তমানে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর পরিবারের। সন্তানকে নিয়ে দিন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তিনি তা পাননি বলে অভিযোগ। বিশ্বনাথ মণ্ডল নামে আরও এক আন্দোলনকারী জানান, জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় তাঁরা থাকেন। প্রায়শই গ্রামে হাতি ঢুকে পড়ছে। হাতির আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুনুকপাহাড়িতে এক জনসভায় হাতির হানায় মৃতের পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মৃতদের পরিবারের কেউই সরকারি চাকরি পাননি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।

এদিকে, গ্রামবাসীদের এই বিক্ষোভ-কর্মসূচি প্রসঙ্গে বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের এডিএফও বুদ্ধদেব মণ্ডল বলেন, ‘এই মুহূর্তে উত্তর বনবিভাগে ছ’টি হাতি রয়েছে। এই এলাকায় হাতির সংখ্যা এক দিকে যেমন কমেছে তেমনই হাতির আক্রমণে মৃত্যু বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেকটা কমানো সম্ভব হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে সেই সংখ্যাটা শূণ্যয় নামিয়ে আনার।’

ওই বনকর্তা আরও জানান, জঙ্গলে হাতিদের খাবার যথেষ্ট রয়েছে। বাঁকুড়ার ২২ শতাংশ বনভূমি। ওই বনভূমি এলাকায় প্রায়ই হাতি ঢুকে পড়ছে। গ্রামবাসীদের উপর হামলা চালাচ্ছে হাতির দল। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চলতি আর্থিক বছরে ৬৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।