স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: কে বলে গ্রামে চিকিৎসা ব্যবস্থা খারাপ। ভরসা না কি শুধুই শহর। গ্রামের চিকিৎসক না থাকলে জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যেত কৃশানু মন্ডল। চিকিৎসকের চেষ্টায় ফিরে পেলেন কেটে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া হাত। ফিরে পেলেন জীবনও

করাত কলে কাজ করতে গিয়ে হাতের প্রায় সিংহভাগ অংশ কেটে ঝুলে পড়ে। সেই কাটা হাত জোড়া লাগিয়েই অনন্য নজির গড়লেন গ্রামীণ হাওড়ার বাগনানের এক চিকিৎসক। সূত্রের খবর,অন্যান্য দিনের মতোই আজ সকালে জয়পুরের নতুনগ্রাম এলাকায় একটি করাত কলে কাজ করছিলেন আমতা-২ ব্লকের জয়পুরের বাসিন্দা কৃশানু মন্ডল। কাজ করতে গিয়ে অসাবধানবশত তার বাম হাতের কব্জি কেটে যায়।

যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে বছর সাঁইত্রিশের কৃশানু। কাটা হাত নিয়েই তাকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় জয়পুর বি বি ধর গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাঁকে স্থানান্তর করার কথা বলেন। তারপর আহত ওই ব্যক্তিকে বাগনানের মানকুড় মোড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিশিষ্ট সার্জেন সুদীপ্ত মল্লিক প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার দীর্ঘ অপারেশনে কৃশানুর কাটা হাত জোড়া লাগান। বাগনান নুন্টিয়ার চিকিৎসক সুদীপ্ত মল্লিকের কথায়, ‘কৃশানুর বাম হাতের পুরো রেডিয়াল আটারি কেটে গিয়েছিল। শিরা-উপশিরা এমনকি হাড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এক্ষেত্রে খুব দ্রুত সার্জারি না করলে হাত পচে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি ওই হাত কেটেও ফেলতে হয় অনেক সময়। এসব ক্ষেত্রে অতিদ্রুত ভাস্কুলার এনাসটোমাসিস করলে ভালো ফল মেলে। আমি তাই করেছি।’ উল্লেখ্য,এই প্রথম না,এর আগেও বেশ কয়েকবার অত্যন্ত গুরুতর অপারেশন করে শিরোনামে এসেছেন এই বিশিষ্ট শল্য চিকিৎসক। গ্রামীণ এলাকায় এই ধরনের চিকিৎসায় আশার আলো দেখছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ। সকলেই একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসক সুদীপ্ত মল্লিকের এমন প্র‍য়াসকে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ