স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: রোজের মতো নিয়ম করে প্রাতঃভ্রমণে বেড়িয়ে ছিলেন গ্রামবাসীরা৷ কিন্তু রাস্তার উপর চাপ চাপ রক্তের দাগ দেখে দিশেহারা হয়ে যান তাঁরা৷ তার ওপর ওই রক্তের দাগের পাশে মাটিতে পড়ে রয়েছে হাতের লোহার বালা ও জুতো৷ নিমেষের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে৷ এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানা এলাকার নিলকুন্ঠা গ্রামে৷

গ্রামবাসীরা মনে করছেন, এই দাগের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য৷ তাঁরা জানিয়েছেন, গত বছর লক্ষ্মী পুজোর দিনে গড়কিল্লা গ্রামের তন্ত্র সাধনার জন্য বারাসত থেকে একটি মেয়েকে এনে বলি দেওয়া হয়েছিল৷ প্রথমে এলাকার পান বরোজের ধারে তন্ত্র সাধনার ধূপ, ফুল, ছড়া, রক্ত সংগ্রহ করার জন্য পাত্র ইত্যাদি পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ পরে তন্ত্র সাধনার যাবতীয় সামগ্রীও উদ্ধার হয় ওই এলাকা থেকেই৷ তার পরেরদিন ভোরবেলায় মুন্ডুহীন একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী৷ পরে রহস্য উদঘাটন হলে সামনে উঠে আসে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা৷

এদিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেও গ্রামবাসীদের আশঙ্কা সামনেই লক্ষ্মী পুজো৷ সেই কারণেই হয়তো সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হতে পারে৷ তাছাড়াও গত বছরের ঘটনাস্থল অর্থাৎ গড়কিল্লা গ্রাম থেকে দু’কিলোমিটার ভিতরে নিলকুণ্ঠা গ্রাম৷ আর সেখানেই রাস্তার উপরে রক্ত ও হাতের বালা পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে৷ গোটা ঘটনায় একটা চাপা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ সেই সঙ্গে গ্রামের মানুষদের গ্রাস করেছে আতঙ্ক৷

ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে তমলুক থানার পুলিশ এসে রক্তের নমুনা, রাস্তায় পড়ে থাকা হাতের বালা ও জুতো সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছে৷ প্রশ্ন উঠেছে, এই এলাকায় জনবসতি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এমন ঘটনা ঘটল? এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে গ্রামবাসীরা৷ অবিলম্বে তদন্ত শুরু করেছে তমলুক থানার পুলিশ৷ জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, সংগ্রহ করা নমুনা রক্ত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে৷ রিপোর্ট আসলে তদন্তের গতি বাড়বে বলে মনে করছে পুলিশ মহল৷

এলাকার মানুষ বলছেন, এখনও তন্ত্র সাধনার জন্য মানুষ বলির ঘটনা ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়৷ কখনও কখনও এই ধরনের কাজের জন্য শিকার হতে হয় সদ্যোজাত শিশুদেরও৷ বর্তমানে এই সব ঘটনা রুখতে প্রশাসন কড়া হলেও, গাফিলতি ও নজরদারির অভাব রয়েই গিয়েছে৷ ওই এলাকার মানুষও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন৷