স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: শষ্যবীজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত এলাকা৷ এই বীজ বন্টন নিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন চাষীরা৷ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসী ১ নং ব্লকের লোয়া-রামগোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে৷

আমনের পরেই রবি চাষের সময় বিভিন্ন ডালশস্য চাষে চাষীদের আগ্রহ সৃষ্টি জন্য, প্রতিটি পঞ্চায়েত থেকেই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের বিনামূল্যে ডালশস্য ও তেলবীজ সরবরাহ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় সমস্ত ব্লকেই এবং সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েতের সংসদ এলাকায় এই বীজ দেবার কাজ শুরু হলেও রীতিমত বীজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে গলসী ১নং ব্লকের লোয়া-রামগোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। অভিযোগে সরব হয়েছেন খোদ নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরাও।

চলতি সপ্তাহেই এই দুর্নীতির প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে চলেছেন এলাকার মানুষ তথা চাষীরা। উল্লেখ্য, গত আমন ধান চাষের সময় পূর্ব বর্ধমান জেলায় ব্যাপকভাবে চাষের জলের সংকট দেখা দেওয়ায় এবং একইসঙ্গে দামোদরের জলাধারে সেচের জন্য পর্যাপ্ত জল দেবার মত জল না থাকায় রীতিমত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে খোদ রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমন ধান চাষের সময় পুকুর, নালা প্রভৃতি থেকে সাময়িক জল দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয় ফলিত আমন ধানের চাষ।

আরও পড়ুন : ‘রেলে ৩ লক্ষ প্রার্থীকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা আরও একটা ভাঁওতা’

জলের এই সংকটের জেরে রাজ্য সরকার তথা কৃষি দপ্তর সমস্ত ব্লকে ব্লকেই ধান চাষের বিকল্প কম জলসেচের চাষগুলিতে চাষীদের আগ্রহ সৃষ্টির উদ্যোগ নেন। গলসীর তৃণমূল নেতা বদরুদ্দোজা মণ্ডল এই ঘটনায় তথ্য জানার অধিকার আইনে খোদ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাজে আবেদন করার পর এই দুর্নীতির বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে বলে দাবি। আর তারপরেই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পম্পা রুইদাসের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে লাগাতার আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

জেলা কৃষি দফতর সূত্রের খবর ওই গ্রাম পঞ্চায়েতকে ৮৩২ কেজি মুসুরি ডাল, ২৩৩ কেজি সরষে এবং ৫০০ কেজি খেসারি ডালের বীজ দেওয়া হয়। নিয়মানুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিটি সংসদ এলাকায় ওই বীজ বিলি করবেন। কিন্তু খোদ পঞ্চায়েত প্রধানের দেওয়া তালিকা অনুসারে তথা মাষ্টার রোল অনুসারে যে সমস্ত গ্রামের যে সমস্ত চাষীদের এই বীজ দেবার কথা বলা হয়েছে তার অধিকাংশই ভুয়ো বলে দাবী করেছেন গ্রামবাসীরা।

রাইপুর, ধর্মপুর, নবখণ্ড, আটপাড়া, শিল্যা, ব্রিংপুর, রামগোপালপুর, রামগোপালপুর দক্ষিণ, লোয়া, করকোনা, দ্বারনাড়ী প্রভৃতি এলাকার জন্য দেওয়া হিসাব হাতে পাওয়ার পরই ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন গ্রামবাসীরা। আর তারপরেই চলতি সপ্তাহেই গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্নীতির প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে পা বাড়াতে চলেছেন গ্রামবাসীরা।

আরও পড়ুন : মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে প্রেমিকার পরিবার, আত্মহত্যা প্রেমিকের

তৃণমূল নেতা বদরুদ্দোজা মণ্ডল জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ব্লকের কৃষি আধিকারিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করলে তাঁদের জানানো হয়েছে, তাঁদের দপ্তর থেকে গলসী ১নং পঞ্চায়েত সমিতিতে কোনো বীজই সরবরাহ করা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে খোদ কৃষি দপ্তরের উদ্যোগেই এবং কৃষি দপ্তরের মাধ‌্যমেই যখন এই বীজ সরবরাহ করার কথা সেখানে গলসী ১ ব্লকের ব্লক কৃষি আধিকারিক জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো বীজই সরবরাহ করা হয়নি।

অন্যদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ব্লক কৃষি আধিকারিক দপ্তর থেকে তাঁকে যে বীজ দেওয়া হয়েছিল তা তিনি মাষ্টার রোলের মাধ্যমে বণ্টন করেন। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পম্পা দাস তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, গ্রামবাসীদের অভিযোগ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের দেওয়া তালিকা অনুসারে অনেকেই এই বীজ পাননি। পাল্টা তাঁরাই প্রশ্ন তুলেছেন এই বীজ কোথায় গেল তা জানাতে হবে পঞ্চায়েত প্রধানকেই। এমনকি গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, দুর্নীতি ঢাকতে গিয়ে প্রধান যে তালিকা দিয়েছেন সেই তালিকা অনুসারে মোট বীজের পরিমাণের সঙ্গে প্রদত্ত হিসাবের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।