স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া : ম্যাডাম কখনো স্ক্রিনে হাত দিয়ে ইংরেজি বর্ণমালা চেনাচ্ছেন; কখনও বা স্যার প্লাস্টিক দূষণের ছবি দেখিয়ে তুলে ধরছেন প্রতিরোধের উপায়। কখনও বা স্ক্রিনে ভেসে উঠছে তারামণ্ডলের ছবি।ক্লাসের মধ্যেই রয়েছে ডেক্সটপ। সঙ্গে প্রজেক্টর এবং উন্নত সাউন্ড সিস্টেম। তার মাধ্যমেই চলছে পড়াশোনা। আর তাতেই বুঁদ খুদে পড়ুয়ারা। এটা কোনও নামী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবি নয়। এই ছবি গ্রামীণ হাওড়ার পাঁচলা ব্লকের নয়াচক সাধুচরণ জুনিয়র বেসিক স্কুলের।

নিয়ম করে কম্পিউটার শেখানোর পাশাপাশি রয়েছে ই-লার্নিংয়ের ব্যবস্থা।প্রতিটি ক্লাসের পাঠ্যসূচি অনুসারে ‘টিচিং-লার্নিং মেটিরিয়াল’কে কম্পিউটারে ফিট করিয়ে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরা হয়।ছবি দেখে পড়ার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ যেমন বাড়ছে,তেমনি বাড়ছে হাজিরাও। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিত দাস জানান,”বিদ্যালয়ের বর্তমান পড়ুয়া সংখ্যা ২২৪। এদের বেশিরভাগই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে,নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা পাঠ্যবইয়ের থেকে মোবাইলে বেশি মনোযোগী।তাই স্মার্টক্লাসের ভাবনা। স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আর্থিক সহযোগিতাতেই কেনা হয় কম্পিউটার ও অন্যান্য সামগ্রী।”

তিনি আরও বলেন,”প্রতিটি ক্লাসের পাঠ্যসূচি অনুয়ায়ী ‘টিচিং-লার্নিং মেটিরিয়াল’কে কম্পিউটারে ফিট করিয়ে পর্দায় পাঠ্যবইয়ের নীরস ও জটিল বিষয়গুলি অডিয়ো-ভিডিয়ো মাধ্যমে জীবন্ত ভাবে ফুটিয়ে তুলা ধরা হয়।দেখা যাচ্ছে,অত্যন্ত মনোযোগের সাথে স্মার্টক্লাসে সামিল হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা।”স্কুল সূত্রের খবর,আগে যেখানে ছাত্রছাত্রীদের গড় উপস্থিতি ছিল ৬৫-৭০ শতাংশ;স্মার্টক্লাস চালু করার পর সেই অঙ্কটা ৯৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।টিফিনের পর থেকে শুরু হয় কম্পিউটারের ক্লাস।ক্লাস নেন সুবীর মন্ডল,তিথি মন্ডল সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।স্কুলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পড়াশোনার স্বীকৃতি হিসাবে ইতিমধ্যেই জেলা সর্বশিক্ষা মিশনের পক্ষ থেকে মিলেছে বিশেষ পুরস্কার। বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা ছাড়াও নাচ-গান-যোগব্যায়াম শেখানো হয় স্কুলে।

‘ই-লার্নিং’ সম্পর্কিত বিষয়টি মূলত দেখাশোনা করেন সহ-শিক্ষক সুবীর মন্ডল।তাঁর কথায়,”শিক্ষামূলক কোনো বিষয় বা গল্প পর্দায় দেখানো হলে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ বাড়ে।এতে পড়াশোনার প্রতি তাদের মনোযোগ যেমন বাড়ছে,তেমনই স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও কমছে।পাশাপাশি,এই উন্নত মানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে স্থানীয় অভিভাবকরা।এবছরই এখনো পর্যন্ত ৬১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।”স্কুলে কম্পিউটার শেখায় স্বভাবতই খুশি অনিশা,সোহমের মতো খুদে পড়ুয়ারা।চতুর্থ শ্রেণীর অঙ্কিতা বাগের কথায়,”বই পড়ার সাথে সাথে স্ক্রিনে ছবি ও ভিডিও দেখায় খুব তাড়াতাড়ি যেকোনো বিষয়ে বুঝতে পারি।”

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এহেন উদ্যোগে খুশি অভিভাবক থেকে স্থানীয়রা।অভিভাবক মাধব আদকের কথায়,”এখন কম্পিউটারের যুগ।স্কুলে এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই দরকার।”আমতার এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্তা অরুণ খাঁ বলেন,”বিজ্ঞানের এই যুগে প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে তৃণমূল স্তর থেকেই প্রয়োগ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।”বর্ণপরিচয়,সহজপাঠের সাথেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিখবে গ্রামের খুদে পড়ুয়ারা—সেই আশাতেই বুক বেঁধেছেন নয়াচক সহ আশপাশের গ্রামের মানুষ।