স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: আগামী ২৯ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমান জেলায় দুটি লোকসভা আসন বর্ধমান দুর্গাপুর এবং বর্ধমান পূর্ব আসনের ভোট গ্রহণ হবে। আর ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছে এক কোম্পানি আধা সামরিকবাহীনি৷

মেমারির মহেশডাঙা ক্যাম্প থেকে মেমারি শহর, মেমারির সুলতানপুর, অতি স্পর্শকাতর এলাকা পারিজাত নগর, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ উদয়পল্লী এলাকা, বহেরা, সালদা, দেওলিয়া, সরডাঙা মোড়, নুদিপুর থেকে চোত্খণ্ড, শোভনা, মোবারকপুর, পূণ্যগ্রাম এলাকার গ্রামবাসীদের ঘুম ভাঙল ভারি বুটের মচমচ শব্দে।

পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, এই আধা সামরিকবাহিনীকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ করানো হচ্ছে। মেমরির সেই সমস্ত এলাকায় আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা রুট মার্চ করল যেখানে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই সমস্ত এলাকায় জওয়ানরা ভারি বুটের শব্দে জানান দিয়ে গেলেন ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দিতে বাধা দিলে তাঁরা তৈরি আছেন প্রতিরোধের জন্য।

দীর্ঘদিন পর গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এর আগেও ভোটের সময় আধা সামরিকবাহিনী এসেছে। কিন্তু এবার যেন একটু অন্যরকম। এদিন আধা সামরিকবাহিনীর জওয়ানরা রুট মার্চে যতই এগিয়েছেন রাস্তার দুধারে গ্রামবাসীদের দেখে তাঁরা দাঁড়িয়েছেন। কথা বলেছেন। জানার চেষ্টা করেছেন, ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়া হয় কিনা? ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে না কি? ভোট দিতে যেতে কোনও অসুবিধে হয় নাকি?

আধা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে থাকা নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা বাসিন্দাদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন একটি করে লিফলেট। যেখানে টোল ফ্রি নম্বর ১৯৫০ ছাড়াও মেমারি থানা, পর্যবেক্ষকদের ফোন নম্বর রয়েছে। এদিন আধা সামরিকবাহিনীর জওয়ানরা গ্রামবাসীদের জানিয়েছেন, যদি কোনো সমস্যা হয় এই টোল ফ্রি নাম্বারে জানালেই তাঁরা হাজির হবেন।

গ্রামবাসীদের মতে, রাজ্য পুলিশে তাঁদের আস্থা নেই। কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এদিন তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁরা পাশে আছেন। এদিন নিমো ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য অরুণ ঢালি জানিয়েছেন, গত পঞ্চায়েতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। নানাভাবে তাদের ভয় দেখানো হয়েছিল। এদিন আধা সামরিকবাহিনীর জওয়ানদের সেই ঘটনা জানানো হয়েছে।