নয়াদিল্লি: চন্দ্রযান-২ কোথায়? এই উৎকণ্ঠায় গোটা দেশকে অন্ধকারে রেখেই রাত নেমে এসেছিল চাঁদের বুকে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় বেশ কিছু ফটো তুলেছিল নাসার স্যাটেলাইট। তবে রাত নেমে আসার ঠিক আগে গোধূলি লগ্নে চাঁদের ঠিক কোথায় রয়েছে বিক্রম ল্যান্ডার তা ঠাহর করতে পারেনি নাসা। আর গত ১৪ই অক্টোবর আবারও বিক্রমকে খোঁজার চেষ্টা চালায় নাসা। কিন্তু, এবারেও ব্যর্থ হতে হল তাঁদের। চাঁদের বুকে হারিয়ে যাওয়া বিক্রমকে খুঁজে বের করতে পারেনি তাঁরা।

গত অগস্ট মাসে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রযান। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামার কথা ছিল চন্দ্রযান বিক্রম ল্যান্ডারের। বিপদসঙ্কুল চাঁদের এই পৃষ্ঠে নামার সাহস এর আগে দেখায় নি কোনও দেশই। ভারতই প্রথম চাঁদের এই প্রান্তে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে পরিকল্পনা মাফিকই চাঁদের বুকে নামতে শুরু করে বিক্রম। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ‘সফট ল্যান্ডিং’ মানে পালকের মত চাঁদের মাটি ছোঁওয়ার কথা ছিল বিক্রমের।

চাঁদের কক্ষপথে ঢোকার পর ১৫ মিনিটই সবথেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে জানিয়েছিলেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে.শিবন। আর সমস্যা শুরু এখানেই। চাঁদের মাটি ছোঁওয়ার আগেই ইসরোর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ল্যান্ডার বিক্রমের। বারংবার চেষ্টা চালিয়েও সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয় ইসরো। সৌরশক্তি চালিত বিক্রমের চাঁদে সক্রিয় থাকার কথা ছিল পৃথিবীর হিসাবে ১৪ দিন। কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও বিক্রমের সাড়া পায়নি ইসরো। শেষ চেষ্টা হিসাবে বিক্রমের সন্ধান পেতে চাঁদের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া নাসার স্যাটেলাইটও বেশ কিছু ছবি তোলে। কিন্তু, রাত নামতে থাকা চাঁদে আলো আঁধারিতে বিক্রম ঠিক কোথায় তার হদিশ পায় নি নাসা।

এর মাঝেই রাত নেমে আসে চাঁদের বুকে। হিমাঙ্কের অনেক নীচে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় চিরঘুমে চলে যায় ল্যান্ডার বিক্রম। এরপরেও হাল না ছেড়ে বিক্রম কোথায় সে বিষয়ে খোঁজ চালাছিলেন বিজ্ঞানীরা। গত ১৪ অক্টোবর নাসার স্যাটেলাইট অরবিটার ‘এলআরও’ চাঁদের কক্ষপথ ধরে উড়ে যাওয়ার সময়ে আবারও বেশ কিছু ছবি পাঠায়। সেই সব ছবি বিশ্লেষণ করেও ল্যান্ডারের কোনও হদিস পায়নি তাঁরা।
তাই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ঠিক কোথায় রয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম তা ঘিরে অনিশ্চয়তা রইলই।