কলকাতা: অনেকদিন পর ফের খবরে বিক্রম-সনিকার কার অ্যাক্সিডেন্ট রহস্য। আজ আলিপুর জেলা ও দায়রা আদালতে ছিল এই মামলার শুনানি। যেখানে অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়কে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান, তাঁর আইনজীবী।

নায়কের আইনজীবী বলেন, ” পুলিশের তরফ থেকে যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে সে রাতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল অভিনেতা। কিন্তু মেডিক্যাল রিপোর্টে সে তার প্রমাণ মেলেনি।” এছাড়া তাঁর আরও দাবি, ” চার্জশিটে ওভারস্পিডের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু রাত তিনটের সময় রাস্তা ঘাট ফাঁকা থাকে। তাহলে ওভারস্পিডের প্রসঙ্গ ভিত্তিহীন।”

যদিও এর পরিপেক্ষিতে বিচারপতি জানান ,”রাত ১১টার পর থেকে যে স্পিডে গাড়ি চালানোর কথা। সেই স্পিডেই গাড়ি চালাতে হবে। কারণ এটা পশ্চিমবঙ্গ, ইংল্যান্ড নয়”। এখানেই শেষ হয় আজকের শুনানি। পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক হয়েছে ৩রা অক্টোবর। এদিন সরকার পক্ষের উকিলের কথা শুনবেন বিচারপতি।

আরও পড়ুন: তনুশ্রীর পাশে একঝাঁক বলি-সেলেব, আইনের পথে নানা

এর আগেও ঘটনার রাতে মদ্যপান করেননি বলে দাবি করেছিলেন বিক্রম। এমনকি জানিয়েছিলেন সেসময় গাড়ির গতিও নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে যদিও তাঁর সব কটি কথা মিথ্যে প্রমাণিত হয়। গাড়ির ভিতরে থাকা ইডি আর যন্ত্র থেকে পুলিশ জানতে পারে, গাড়ির গতি একশোর বেশিই ছিল। সিটবেল্টও বাধা ছিল না। এমনকি জেরার মুখে অভিনেতা মদ্যপানের কথা স্বীকার করলেও বেসামাল ছিলেন না বলে দাবী করেন।

২৯ এপ্রিল ভোররাতে লেক মলের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর মডেল বান্ধবী সনিকা সিং চৌহান। সেদিনই মৃত্যু হয় সনিকার। তারপরই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগ। প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। পরে ট্র্যাফিক আইন ভাঙা ও অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ।

এই ঘটনার প্রায় দু’মাস পর ৬ জুলাই যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও টালিগঞ্জ থানার পুলিশ। আদালতে বিক্রমকে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে তিনদিনের পুলিশি হেফাজত হয়। যদিও নায়কের বিরুদ্ধে ৩০৪এ ধারায় মামলা করেছিল পুলিশ। তবে জামিনযোগ্য ধারা হওয়ায় বিক্রম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়ে যান।