কলকাতা : আইন বা বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীর শাস্তি হয়। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া জঘন্য অপরাধ। তার কোনও ক্ষমা নেই। বিকাশ দুবে এনকাউন্টারের ঘটনায় এই ভাষাতেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ করলেন কলকাতার মেয়র ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম।

এদিন ফিরহাদ জানান এই পথে না গিয়ে পুলিশে আদালতে বিকাশ দুবেকে তুলে দিতে পারত। আইনের পথেই শাস্তি হত বিকাশ দুবের। সেটাই সঠিক হত। আদালত যে শাস্তি নির্ধারণ করত, সেটাই বিকাশ দুবের সঠিক পরিণতি হত। এদিন কড়া ভাষায় ইউপি পুলিশের নিন্দা করেন ফিরহাদ হাকিম। এভাবে কাউকে ইচ্ছাকৃত মেরে ফেলা সংবিধানসম্মত নয় বলে জানান তিনি।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ আইনের রাস্তায় না হেঁটে অনৈতিক কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন ফিরহাদ। এই ধরণের ঘটনায় দেশের মানুষের আদালত, বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে ভরসা উঠে যাবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। গ্রেফতার করার পর কাউকে এভাবে মেরে ফেলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন ফিরহাদ আরও বলেন, যারা দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর ভরসা করতে পারেন না, তারা দেশের সংবিধানকেও মানেন না। তাহলে মানবতারও কোনও জায়গা নেই সেখানে। গোটা দেশেই তাহলে জঙ্গলরাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। অপরাধীদের ধরা সরকারের কাজ, কিন্তু সরকার সেটা করতে গিয়ে নিজে অপরাধী হয়ে যেতে পারে না।

এদিকে, শুক্রবারই উজ্জয়িনী থেকে কানপুর ফেরার পথে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিকাশ দুবের মা সরলা দেবী ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন৷ মিডিয়ার শত আহ্বানেও কোনও সাড়া দেননি তিনি৷ জানিয়ে দেওয়া হয় সরলা দেবীর শরীর খারাপ হওয়ায় তিনি ঘরে শুয়ে আছেন।

শুক্রবার বিকাশ দুবের মৃত্যুর খবর তার পরিবারকে জানানোর জন্য পুলিশের একটি টিমকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় লখনউ এর কৃষ্ণনগর এলাকায় অবস্থিত সরলা দেবীর ছোটো ছেলের বাড়িতে। যদিও পুলিশের সঙ্গে কানপুর যেতে অস্বীকার করেন তিনি

গ্যাংস্টার বিকাশের মৃত্যুর পর তার বাড়ির কোনও সদস্যই হাসপাতালে পৌঁছয়নি৷ বিকাশের বাবা কানপুরেই আছে৷ তাই পোস্টমর্টেমের পর তার হাতে দেহ তুলে দেওয়ার কথা। কৃষ্ণানগরে বিকাশের বাড়ির বাইরে পুলিশের বড় দল মোতায়েন করা আছে৷

হিস্ট্রি শিটার বিকাশ দুবে ২০০১ সালে দায়ের হওয়া রাজ্যমন্ত্রী সন্তোষ শুক্লার মৃত্যুর মূল অভিযুক্ত ছিল সে। ২০০০ সালে কানপুরের শিবলী থানার নারাচন্দ কলেজের সহায়ক প্রবন্ধক সিদ্ধেশ্বর পাণ্ডেয় হত্যায় সেই অভিযুক্ত ছিল৷ কানপুরের শিবালী থানায় ২০০০ সালে রামবাবু যাদবের হত্যার প্ল্যানিং বিকাশ জেলের ভিতরে থেকে করেছিল বলে জানা গিয়েছে৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ