- Advertisement -

আইজল: চিনের উদ্বেগ বাড়িয়ে জঙ্গল যুদ্ধের মহড়া দিল ভারত ও ভিয়েতনামের সেনাবাহিনী৷ মিজোরামেরে ভৈরেংতের জঙ্গলে চলছে এই মহড়া৷ এমন এক সময়ে এই মহড়া হচ্ছে যখন, চিনের সাহায্যে পাকিস্তান সামরিক শক্তি বাড়িয়ে নিতে তৎপর৷ বেজিং থেকে এই সাহায্যের কথা ফলাও করে জানানো হয়েছে৷ এরই মাঝে উত্তর পূর্ব ভারতের মিজোরামে ভিয়েতনামি সেনার মহড়া বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণ৷

ভিয়েতনাম এমন এক দেশ যারা একইসঙ্গে আমেরিকা ও ফরাসী উপনিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্তাক্ত লড়াইয়ের পর স্বাধীনতা অর্জন করেছিল৷ তার পরেই চিনা গণফৌজের হামলা রুখেছিল ভিয়েতনামের সেনাবাহিনী৷

- Advertisement -

কেমন চলছে সেই মহড়া? ভৈরেংতের জঙ্গলে আলাদা করে ভিয়েতনামি বলে সনাক্ত করা সহজ নয়। দুই দেশের সেনাবাহিনীর পোশাকও একই৷ জঙ্গলের মধ্যে জঙ্গিদের চোখকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা। ভিয়েতনামি সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়াও, নয়াদিল্লি হ্যানয়কে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র৷ গত সপ্তাহেই এই মিসাইলটি পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। এই মিসাইলটি চিনের জন্য চিন্তার কারণ। এছাড়া নয়াদিল্লির তরফে হ্যানয়কে আকাশ মিসাইল দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে৷ শুধু জঙ্গল যুদ্ধের মহড়া নয়, ভিয়েতনামি নৌ সেনাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে চলেছে ভারত৷ বিশাখাপত্তনম বন্দের নৌ সেনার সাবমেরিন প্রশিক্ষণ স্কুলে ভিয়েতনামি নৌসেনারা মহড়ায় অংশ নেবেন৷ একইসঙ্গে তাদের সাবমেরিন চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে৷

আমেরিকার সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ভিয়েতনবাম৷ আর স্বাধীনতার ঠিক পর ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনাম ও চিন সীমান্ত যুদ্ধে প্রবল ধাক্কা খেয়েছিল চিনা গণফৌজ৷ এই যুদ্ধে মৃত্যু হয় বহু মানুষের৷ তারপর থেকেই বেজিং ও হ্যানয়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভালো নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মাটিতে চিনা আধিপত্য ঠেকাতে নয়াদিল্লি হাত বাড়িয়েছে হ্যানয়ের দিকে৷ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্ট বলছে, ’৭৯ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে বেজিংয়ের সঙ্গে হ্যানয়ের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তা ক্রমশ কমে আসছে৷

দু’দেশের মধ্যে আর্থিক সম্পর্ক আগের থেকে উন্নত। এছাডা় দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিং এর তৈরি কৃত্রিম পাহাড় তৈরিকে সমর্থন দেখিয়েছে ভিয়েতনাম। তবুও কোথাও গিয়ে চিন ভিয়েতনামের সীমান্ত যুদ্ধের রেশ এখনও রয়ে গেছে৷

সীমান্ত এবং হিমালয় এলাকায় চিনের অনবরত বিস্তার নিয়ে চিন্তিত ভারত। সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে চিনের নিউক্লিয়ার সাবমেরিন চালানো এবং পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সমীকরণও ভারতের জন্য চিন্তার কারণ। রবিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি সাবমেরিনকে অনুমোদন দিয়েছেন। এই দুটি সাবমেরিনের নাম হল নবযাত্রা ও জয়যাত্রা। এবং বাংলাদেশের নৌ সেনায় এই দুটিই প্রথম সাবমেরিন। অন্যদিকে আরব সাগরের উপকূলে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরে চিনা বিনিয়োগে চিন্তিত ভারত৷ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে ‘কমিউনিস্ট’ চিনের গলার কাঁটা আরও এক ‘কমিউনিস্ট দেশ’ ভিয়েতনামের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়িয়ে নিতে তৎপর নয়াদিল্লি৷