অরুণভ রাহারায়, কলকাতা: প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল কলেজস্ট্রিট। গতকাল বিদ্যাসাগর কলেজে মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে আজ বিকেলে কলেজ স্কোয়ারে সরব হয়েছিল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ছাত্রসমাজ। কেশব ভবনের সামনে মিছিলের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ করে বলে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ। ঘটনার জেরে অনেকে আক্রান্ত হয়।

মিছিলে ছিল না কোন রাজনৈতিক পতাকা। ছিল শুধু বিজেপি বিরোধী স্লোগান। কিন্তু সেই মিছিলে হামলা চালালো তৃণমূলের পুলিশ। এমনই অভিযোগ মিছিলে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে আজ বিকেলের মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কবি মন্দাক্রান্তা সেন, নাট্যকার জয়রাজ ভট্টাচার্য্য, অভিনেত্রী দামিনী বসু, সৌকর্য ঘোষাল এবং আরো অনেকে।

মিছিল থেকে বারংবার এই শ্লোগানে উঠতে থাকে– কিছু গেরুয়াধারী অবাঙালি বঙ্গ সংস্কৃতির ধারক এবং বাহক বিদ্যাসাগরের মূর্তিকে খানখান করেছে। কিন্তু তারা বাঙালি সংস্কৃতিকে ভূলুণ্ঠিত করতে পারে না কিন্তু সেই মিছিলে হামলা চালাল পুলিশ এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গতকাল বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে আজ সকালে দলীয় পতাকা নিয়ে বামপন্থী সংগঠন মিছিল বের করে। তবে বিকেলের মিছিলে বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অনুপস্থিত। প্রশ্ন উঠেছে এই নিয়েও যে, তাদের মিছিল আরও সুসংগঠিত হতে পারতো। তবে তরুণ ছাত্র সমাজ বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে অল্প সময়ে আজ ঐক্যবদ্ধ মিছিল সংঘটিত করেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য।

বঙ্গ সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষার্থে আগামীদিনের সঠিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম একমাত্র স্বাধীন ছাত্র সমাজেই। এমনটাই মনে করছেন বুদ্ধিজীবী শিক্ষক সমাজ।