প্রসেনজিৎ চৌধুরী: মনে করুন সেই সাধারণ অফিসে কাজ করা মেয়েটার কথা। যার মনোজগতে রয়েছে এক অতি সাধারণ যুবক, সেও চাকরি করে। তাদের দেখা হওয়া, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে পাশে আসা-দূরে চলে যাওয়া ফের কাছে আসা…মাঝে দীর্ঘ বিকেল বা প্রথম সন্ধ্যার জলছবি মাখা মুহূর্ত আর এক থোকা রজনীগন্ধা। সব মিলে তিনিই ছিলেন এই চিরকালীন মধ্যবিত্ত জীবনের ওয়ার্কিং লেডির মূর্ত প্রতীক হয়ে-বিদ্যা সিনহা। ভারতীয় ছবির প্রথম সাধারণ ঘরের কোনও চরিত্র আইকন।বৃহস্পতিবারে প্রয়াত হয়েছেন বিদ্যা সিনহা।

মুম্বইতেই তাঁর প্রয়াণ হয়েছে। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। স্বাধীনতার বছরেই জন্ম-১৯৪৭ সালের ১৫ নভেম্বর। প্রয়াণ ২০১৯ সালের ১৫ অগস্ট-স্বাধীনতার দিনে। ভারতীয় ছবিতে আম আদমির জীবন রুপোলি দুনিয়ায় যে কয়েকজন অভিনেতা ফুটিয়ে তুলেছেন তাদের একজন অবশ্যই অমল পালেকর। অত্যন্ত শক্তিশালী এই অভিনেতার সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করেছিলেন বিদ্যা সিনহা। রাস্তার ভিড়, বাস- ধাক্কা ধাক্কি, একাকীত্বর মুহূর্তগুলি তাঁকে ঘিরে চিরন্তন হয়ে গিয়েছে। সত্তরের দশক।

একটা দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছিল। কী হয় কী হয় ভাব। সেরকমই সময়ে ১৯৭৪ সালে বলিউডের স্নিগ্ধ ঝলক বিদ্যা সিনহার। শুরুতেই জন মানসে স্থান পেয়ে গেলেন। তারপর চার দশক পেরিয়ে গিয়েছে, বিদ্যার সেই অনাবিল হাসি ও সুপার হিট গানগুলির কারণে রজনীগন্ধা এখনও জনপ্রিয়। শুধু কি রজনীগন্ধা, ছোটি সি বাত, পতি পত্নী অউর ওহ বারে বারে দর্শকদের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন বিদ্যা সিনহা। বলিউডের তখন সুপার কম্পোজিশন- অভিনয়ে বিদ্যা-অমল, পরিচালনায় বাসু চ্যাটার্জী। গানে লতা-আশা। আর কী চাই।

এ যেন এক আলাদা ঘরানা। শান্ত আর নির্লিপ্ততায় মাখামাখি জীবন। তারই মাঝে রয়েছে টানাপোড়েন। অল্প খুশি, অল্প দুঃখ আর মনোজগতে বারে বারে ঝংকার তোলে সম্পর্কের বীণা। সত্তরের দশকে তাবড় তাবড় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দাপট তখন বলিউডে। তারই মাঝে ছা-পোষা মধ্যবিত্ত জীবনের কথা বারে বারে ফুটে উঠেছে বিদ্যা সিনহার চরিত্রে। পরবর্তী আশির দশকেও কিছু মাত্রায় সেটি দেখা গিয়েছে। তারপর টেলি দুনিয়ায়। সর্বশেষ হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ- ঝিমিয়ে যাওয়া রজনীগন্ধা।
সেই ফুলেই তাঁর বিদায়।