মুম্বই: নিমেষের মধ্যে জটিল যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ করে দিতেন শকুন্তলা দেবী৷ অংকের এই জিনিয়াসকে নিয়ে ছবি হচ্ছে ৷ আর সেই ছবিতে বিদ্যা বালান অভিনয় করবেন শকুন্তলা দেবীর চরিত্রে।

কয়েক বছর আগে ২০১৩ সালে মারা যান এই প্রতিভাধর মহিলা৷ কিন্তু জীবিত অবস্থায় তাঁর সুতীব্র সংখ্যা গণনা করার দক্ষতার জন্য পরিচিত হয়েছিলেন ‘মানব ক্যালকুলেটর’ বা ‘হিউম্যান কম্পিউটার’ বলে। কোনও প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও শকুন্তলা দেবীর মেধার জন্য তাঁকে ১৯৮২ সালের ‘দ্য গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ স্থান পেয়েছিলেন।

শকুন্তলা দেবী ১৯২৯ সালের ৪ নভেম্বর ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে একটি কন্নড় ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বাল্যকালে শকুন্তলার অসাধারণ স্মরণ শক্তি ও সংখ্যা গণনার দক্ষতাকে তাঁর বাবা বেশি গুরুত্ব দেননি। যদিও মাত্র তিন বছর বয়সে তাঁকে তাসের বিভিন্ন খেলা রপ্ত করিয়ে ফেলেছিলেন। শকুন্তলার বাবা ছিলেন একটি সার্কাসের দলে। তিনি ওই দল ছেড়ে মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন ‘রোড শো’ শুরু করেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে শকুন্তলা মাইসোর বিশ্ববিদ্যালয়ে অসাধারণ এই দক্ষতার প্রদর্শনী করেন। ১৯৪৪ সালে শকুন্তলা তাঁর পিতার সাথে লন্ডন চলে আসেন। এরপর ১৯৬০ এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি ভারতে চলে আসেন।

শকুন্তলা দেবীর এই অসাধারণ ক্ষমতা প্রকাশ পেলে সমস্ত বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রদর্শনী শুরু হয়। ১৯৫০ সালে ইউরোপে,১৯৭৬ সালে নিউইয়র্কে তাঁর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক আর্থার জেসন তাঁর উপর গবেষণা করেন। তিনি শকুন্তলা দেবীর মানসিক দক্ষতার উপর বেশ কিছু পরীক্ষা করেন৷

‘লন্ডন, প্যারিস, নিউ ইয়র্ক’ ছবির পরিচালক অনু মেনন এবার শকুন্তলা দেবীকে নিয়ে ছবি করছেন৷ পরিচালনার পাশাপাশি এই ছবির কাহিনি লিখেছেন অনু মেননের সঙ্গে নয়নিকা মাথানিও। ছবির জন্য ঈশিতা মৈত্র লিখছেন সংলাপ। এ বছরেই শেষে শুটিং পর্ব মিটিয়ে আগামী বছর মুক্তি পাবে ছবিটি বলে খবর। এদিকে এমন একটা ছবি করার ব্যাপারে বিদ্যা জানিয়েছেন, তিনি হিউম্যান কম্পিউটার শকুন্তলা দেবীর উপর ছবি করতে পাওয়ার সুযোগ পেয়ে অভিভূত।