নিউ ইয়র্ক: করোনা ভাইরাসের মোকাবিলার জন্য সব সময়ে মানুষকে কাশি ও হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ চাপা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সম্প্রতি ডেলি মেলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, বিমানের মধ্যে কাশলে কত দ্রুত এই করোনা ভাইরসা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কয়েক বছর আগে ইন্ডিয়ানার পিওরডিউ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভিডিও তৈরি করেছিল। সেই ভিডিওর মধ্যে দেখানো হয়, বিমানের মধ্যে একজন কাশলে, সেখান থেকে লালার কণা বা ড্রপলেট ছড়িয়ে পড়ে। সেই ড্রপলেটের মধ্যে থাকা জীবাণু বিমানের হাওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

যে কাশছে তার ধারেকাছে ১০জন মানুষের মধ্যে এই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। এছাড়াও কেবিনের দেওয়ালে বা কোণেও থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে বাতাসে বাহিত ভাইরাস বা এয়ারবোন ভাইরাস খুবই বিপজ্জনক বিমানের ক্ষেত্রে। তবে সার্স বা কোভিডও এয়ারবোন কি না তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় বিজ্ঞানীরা।

এমনকী এয়ার কন্ডিশনিং থাকায় কোনও জীবাণু আক্রান্ত মানুষ কাশলে বিমানের মতোই, অফিস বা রেস্তোরাঁর মত জায়গাতেও দ্রুত ভাইরাস ছড়ায়। মার্কিন আধিকারিকরা একটি গবেষণা করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার এক অফিসে একজন সার্স কোভিড২ আক্রান্তের থেকে অফিসের ৪৩ শতাংশ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এই জিফ ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে লালার ড্রপলেটগুলি খুবই ছোট যা চোখে কখনওই দেখা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা ২০১৪ সালে বিমানের মধ্যে জীবাণু সংক্রমণ নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলেন। সেই গবেষণার রিপোর্টে তাঁরা একটি ভেন্টিলেশন সিস্টেম তৈরি করার কথাও বলেন।

এয়ারলাইনস-এর কমার্শিয়াল কেবিনে এই ভাইরাস ছড়ায় দ্রুত। ২০০৩ সার্সের একটি এয়ারবোন ভাইরাস এই ধারণায় এই মডেল তৈরি করা হয়েছিল। ধরে নেওয়া হয়, যেহেতু ড্রপলেটগুলি খুবই ছোট তাই হাঁচি বা কাশি থেকে সহজেই জীবাণু চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে কোভিড ১৯ এর ড্রপলেট আকারে কিছুটা বড়। এই ভাইরাস কেবল ড্রপলেটের মাধ্যমেই ছড়ায়। এমনই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। যেহেতু কোভিড ১৯ এর ড্রপলেট আকারে বড় তাই এটি বেশি দূরে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। আর তাই বার বার সোশ্যাল ডিসট্যান্স বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে।

যদিও মার্কিন বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন এই ভাইরাস তিন ঘণ্টা বাতালে সক্রিয় থাকতে পারে। তবে হু এখনও এই তথ্যে কোনও অনুমোদন দেয়নি। বাতানুকূল জায়গায় এই ভাইরাস বাতাসে ছড়াতে পারে এমন কিছু তথ্য দেখা গেলেও বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি যে কোভিড ১৯ এয়ারবোন কিনা।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প