নয়াদিল্লি: পঞ্চম দফা নির্বাচন চলাকালীনই ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ এনেছিলেন৷ নির্বাচন কমিশনে সেই অভিযোগও দায়ের করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের আমেঠি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানি৷ তবে সেই অভিযোগের ভিত্তি নেই৷ মঙ্গলবার জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন৷

উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জমা দেওয়া ছাপ্পা ভোটের প্রমাণ ভিডিওটিকে ভুয়ো বলে দাবি করেছেন৷ উল্লেখ্য, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সংকীর্ণ রাজনীতির অভিযোগ আনেন আমেঠির বিজেপি প্রার্থী৷ তিনি বলেন নির্বাচনে জেতার জন্য সস্তা রাজনীতি করছেন রাহুল৷ রীতিমত ছাপ্পা ভোট চলছে আমেঠি জুড়ে৷

আরও পড়ুন : ভাতা পেয়ে তৃণমূলের প্রচারে নামলেন কলাকুশলীরা

এই অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ক্লিপও জমা দেন তিনি৷ তবে মঙ্গলবার স্মৃতি ইরানিকে অস্বস্তিতে ফেলে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল ওই ভিডিওটি বানানো হয়েছে৷ আসল নয়৷ উত্তরপ্রদেশের সিইও ভেঙ্কটেশ্বর জানান স্মৃতির আনা অভিযোগের সত্যতা নেই৷ তাই ফুটেজটি খারিজ করা হয়েছে কমিশনের তরফে৷

পাশাপাশি, সোমবার ভোট চলাকালীন রাহুলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনেন স্মৃতি৷ তিনি বলেন, কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুস্মান ভারতে’র কার্ড থাকা সত্ত্বেও আমেঠির এক বৃদ্ধকে চিকিৎসার জন্য ভরতি নেয়নি হাসপাতাল৷ যে হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান রাহুল গান্ধী৷ স্মৃতি ইরানির অভিযোগ, কংগ্রেস সভাপতির দম্ভ ও হাত শিবিরের অহঙ্কারের জেরেই নিরাপরাধ এক ব্যক্তিকে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে হল৷ কংগ্রেসের সংকীর্ণ রাজনীতির বলি হতে হল ওই বৃদ্ধকে৷

আরও পড়ুন : রামের স্লোগান দিয়েও মন্দির নির্মাণ করতে পারেনি বিজেপি, কটাক্ষ মমতার

উল্লেখ্য, গতবার ভোটে হারলেও রাহুল-স্মৃতির জয়ের ব্যবধান কমেছিল ২০১৪ সালে৷ তারপর উত্তরপ্রদেশ ছাড়েননি স্মৃতি৷ নানা সময়ে তাঁকে দেখেছেন মানুষ৷ উলটো দিকে হাত শিবিরের গড় বলে পরিচিত আমেঠিতে গত পাঁচ বছরে দেখা যায়নি সাংসদ রাহুলকে৷ অভিযোগ ওই কেন্দ্রের ভোটারদের৷ প্রচারেও যা তুলে ধরেছে বিজেপি৷

তবে গড় ধরে রাখতে দাদার হয়ে প্রচার করেছেন বোন প্রিয়াঙ্কা৷ প্রচারে বেরিয়ে স্মৃতির বিরুদ্ধে তোপ দাগকেও দেখা যায় তাঁকে৷ যা নিয়ে এদিন স্মৃতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘পাঁচ বছর আগে আমাকে চিনতেন না প্রিয়াঙ্কা৷ এখন আমার নাম এতবার উনি বলেছেন যে নিজের স্বামীর নাম নেন কিনা সন্দেহ৷’’

আরও পড়ুন : কেজরিকে চড় মারার পিছনে রয়েছে মোদী-রাহুল : সঞ্জয় সিং

গত নির্বাচনে রাহুলের কাছে হারলেও এবারও স্মৃতির উপর ভরসা রেখেছে অমিত-মোদী জুটি৷ গত পাঁচ বছরে মোদী সরকারের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এবার রাহুলকে কড়া টক্করের হুঁশিয়ারি দেন স্মৃতি৷ সম্প্রতি আমেঠিতে একদিনের সফরে গিয়ে স্মৃতি বলেন, ‘আমেঠি এখন আর রাহুল গান্ধীর গড় নয়৷ লোকসভায় ও সব ক’টি সিটেই হারবে৷ আমেঠি এখন থেকে উন্নয়নের গড় হিসেবে জানা যাবে৷ আমেঠিতে কংগ্রেস তার আধিপত্য ধরে রাখতে পারলে গত পাঁচ বছরে রাহুল গান্ধীর সব নির্বাচনে জিতত৷’