তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বাংলা জুড়ে এখন উঠেছে মোদী ঝড়৷ রাস্তাগুলি গেরুয়া রঙে সেজে উঠেছে৷ বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ড: সুভাষ সরকার৷ তিনি তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে ১,৭৪,৩৩৩ ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি৷

ডাক্তারবাবু ও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ফের এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসায় উজ্জীবিত দলীয় নেতা কর্মীরা। শুক্রবার সকাল থেকে বাঁকুড়া শহরের পাঁচবাগা এলাকায় বিজেপি নেতা কর্মীরা পথ চলতি মানুষ, টোটো, বাইক আরোহী সহ সমস্ত স্তরের মানুষের হাতে লাড্ডু তুলে দিলেন। বিজেপির নেতা কর্মীদের হাত থেকে গেরুয়া লাড্ডু উপহার পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষও।

এক সময় এলাকায় দাপুটে তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত, সম্প্রতি মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে আসা রঞ্জিত মজুমদার (বাপী) বলেন, মানুষের আশীর্বাদ আর সমর্থনে নিয়ে মোদীজী ফের কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছেন৷ একই সঙ্গে বাঁকুড়া কেন্দ্রেও তাদের দলের প্রার্থী সুভাষ সরকার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২০১৮ সালে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল সন্ত্রাস করে মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য শাসক দলের এই শোচনীয় পরাজয় বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, শুক্রবার একেবারে অভিনবভাবে নিজের জয়কে সেলিব্রেট করলেন বিজেপি নেতা ডাঃ সুভাষ সরকার। এদিন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে নিজেই রক্তদান করলেন। পেশায় চিকিৎসক, বিজেপি নেতা ও সাংসদের অভিনব এই ভাবনায় খুশির হাওয়া ব্লাড ব্যাংক জুড়ে।

সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম রক্তদান করে ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, আমি ভীষণ খুশি। তাই আজকের দিনে আমি রক্তদানের মধ্য দিয়ে মানুষের সেবায় প্রতিশ্রুতি বদ্ধ এই বার্তাই দিতে চাই। গ্রীষ্মকালে রক্ত দিলে রক্তদাতার কোন ক্ষতি হয় না, বরং রক্ত দিলে ব্লাড ব্যাংকের রক্তের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। আগে অনেক সমস্যা ছিল, বর্তমানে ভল্যান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আন্দোলনের ফলে রক্তদান বিষয়ে মানুষের ভীতি অনেকটাই কাটানো গিয়েছে।

তিনি ওই অ্যাসোসিয়েশনের পাশে আজীবন থাকার আশ্বাস দেন৷ বলেন, খবর পাই আজই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের রক্ত দেওয়া হবে। তাই এখানে রক্ত দিতে ছুটে আসি। এই ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা আমাদের সবার রক্ত নিয়ে অনেক দিন বেঁচে থাকবে। ওদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়, আর তারা যাতে পায় তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।