ভিক্টোরিয়া: বৃহস্পতিবার সন্ধেয়ে আচমকা সেই অবাক করা দৃশ্য দেখল শহরবাসী। গোটা শহরের রঙ তখন কমলা। যেন লেন্স দিয়ে দেখা হচ্ছে। দূরের জিনিসের দৃশ্যমানতা কমে আসছিল। কিছুই প্রায় দেখা যাচ্ছিল না।

আসলে ধুলো ঝড়ের জন্যই ঘটেছে এমন ঘটনা। শহরটির আকাশের রঙ হয়ে ওঠে কমলা। দৃশ্যমান সবকিছু আড়াল করে ফেলে। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া শহর এই দৃশ্যের সাক্ষী ছিল।

ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ধুলো ঝড়টি দুপুরে শহরে আঘাত হানে। আর তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধুলোর স্তর এতটাই পুরু ছিল যে, তাতে আকাশের রঙ বদলে যায়।

ভিক্টোরিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো জানায়, জেলার উত্তরাংশে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ধুলো ঝড়টি হয়। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে এই শহরে। তবে এদিনের মাত্রা ছিল অনেকটাই বেশি।

বায়ুতে ধূলোর উপস্থিতির কারণে শহরের দৃশ্যমানতার অবনতি হয়। ছবিতে দেখা গিয়েছে, রাস্তায় গাড়ি মেঘলা লাল কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। আবহাওয়া ব্যুরো জানায়, বিমানবন্দরে দৃশ্যমানতা চার কিলোমিটার থেকে ৫০০ মিটারে নেমে আসে।

সম্প্রতি, অঞ্চলটিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে। আগুন ও ধুলো ঝড়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়েছে। শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। অন্তত ১০ বছর আগে এমন এক ভয়াবহ ধুলো ঝড় দেখেচিল অস্ট্রেলিয়া। সেবার বিমান পরিষেবা বাতিল করতে হয়েছিল। চোখে দেখা যাচ্ছিল না সিডনি অপেরা হাউস, হারবার ব্রিজ।

মেলবোর্ন ও সোয়ান হিলেও ধুলো ঝড়ের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের এই মুহূর্তে অন্য কোথাও যাওয়ার মতও হাতে সময় নেই। তাই তাদের বাড়ি থেকে বেরতে বারণ করা হয়েছে। গাড়ি চালানোও নিরাপদ নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্যুরোর কেভিন পারকিন নামের এক কর্মকর্তা বলেন, ধুলো ঝড় হলো মাটির উপরিভাগ। খরার কারণে সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য হয়ে পড়ায় বাতাসে তা উড়ে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটতে থাকবে।