স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার পর গড়িয়ে গিয়েচে মাস৷ কিন্তু এখনও তদন্ত একটুও এগোয়নি বলে অভিযোগ৷ আর পুলিশের এই গড়িমসি অভিযোগ তুলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল স্থানীয় মানুষজন ও মৃতের পরিবার৷ ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়াল কাঁথির জুনপুটে।

মৃতের বাড়ির লোকের অভিযোগ, দোষীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। তাই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে মৃতের পরিবার এবং এলাকাবাসীরা সামিল হলেন প্রতিবাদে। খুনিদের গ্রেফতার এবং শাস্তি চেয়ে রাস্তা অবরোধ করে টানা ১০ ঘণ্টা অবরোধ করলেন তাঁরা। যদিও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: ভোটারদে’র উৎসাহিত করতে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনে’র বিশেষ উদ্যোগ

কাঁথির মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এম এম হাসান বলেন, ‘‘ আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ জানা গিয়েছে, ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে ওড়িশার ধামরাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হয়ে যান কাঁথির জুনপুট কোস্টাল থানার পশ্চিম বিচুনিয়ার বাসিন্দা বছর তিরিশের পরিমল শ্যামল।

এরপর ১২ মার্চ ধামরাতে উদ্ধার হয়েছিল তাঁর দেহ। পরে পরিবারের লোকেরা সেখানে গিয়ে মৃতদেহ শনাক্ত করেছিলেন। ২৬ মার্চ জুনপুট কোস্টাল থানায় খুনের অভিযোগ জমা করেছিলেন মৃতের দাদা প্রভাত শ্যামল। তাঁর অভিযোগ, ঝগড়া-অশান্তির কারণে পরিমলকে মারধর করে খুন করার পর প্রমাণ লোপাটে তার মৃতদেহ সমুদ্রে ফেলে দিয়েছিল ট্রলারের অন্যান্য কর্মচারীরা।

আরও পড়ুন: উপস্থিতির হার কম থাকায় পরীক্ষায় না বসতে পেরে বিক্ষোভ ছাত্রদের

ঘটনায় পশ্চিম বিচুনিয়ার বাসিন্দা ট্রলার মালিক সজল জানা সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। আর সেই অভিযোগের তদন্ত শুরু না হওয়ায় এদিন সকাল থেকে মৃতের পরিবারের সঙ্গে প্রায় কয়েক

হাজার গ্রামবাসী কাঁথি-জুনপুট সড়কে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধে বসে পড়েন। বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চলে এই অবরোধ-বিক্ষোভ। ঘটনার তদন্ত শুরু না হলে বুধবার থেকে ফের আন্দোলনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা৷