স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: এমজেএন হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত হলেও হাসপাতালের নামের কোনও পরিবর্তন হচ্ছেন৷ তা মহারাজার নামেই থাকছে। বৃহস্পতিবার এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন কোচবিহার গর্ভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপারিটেন্ডেন্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপাল রাজীব প্রাসাদ। তাঁর দাবি হাসপাতালের নাম একই থাকছে।

সম্প্রতি সরকারি এক নির্দেশিকায় কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নিত করা হয়েছে৷ এবং এই নতুন মেডিক্যাল কলেজের নাম রাখা হয়েছে কোচবিহার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দেখা দেয়৷ অনেকেই এই সিদ্ধান্তের আপত্তি জানায়। তাঁরা দাবি করেন হাসপাতাল থেকে মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণের নাম সরানো যাবে না।

আরও পড়ুন: লক্ষ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার শহরে

১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দের আগে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বলতে যা বোঝায় তা কোচবিহারে প্রচলিত ছিলনা। ওই বছর নভেম্বরে ইংরেজ সরকার কোচবিহারে একজন ভারতীয় চিকিৎসকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, ট্রেনিং সম্পর্কে কোথাও কোনও তথ্য নেই।

আমাদের দেশে ১৮৩৫ সালে কলকাতায় মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার এই দেশের পরিচয় ঘটে। ১৮৪১ সালে মহারাজা শিবেন্দ্রনারায়ণ ভারত সরকারের কাছে তাঁর রাজ্যের জন্য একজন যোগ্য আধুনিক চিকিৎসক চেয়েছিলেন। সেই সময় চিকিৎসক পাওয়া দুঃসাধ্য। তার উপর অচেনা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নিরাপত্তাহীন, সুদূর কোচবিহারে কেউ আসতে চাইতেন না।

আরও পড়ুন: ভ্রমণে উৎসাহ দিতে নৈহাটিতে পর্যটন মেলা

শেষ পর্যন্ত ১৮৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে উত্তীর্ণ সেরা ছাত্রদের একজন ডাঃ শ্যামাচরণ সরকারকে ভারত সরকার কোচবিহারে পাঠান। মহারাজার দরবারে মেডিক্যাল অফিসার হিসাবে তাঁর যোগ দেওয়া কোচবিহারের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

দীর্ঘ দুটি দশক কোচবিহারের সঙ্গে যুক্ত এই কুশলী চিকিৎসক ১৮৬৩ সালের অক্টোবরে নিজের হাতে জীবনের বেদনাময় পরিসমাপ্তি ঘটান। তাঁর প্রয়াণের দুই বছর পর কোচবিহারে প্রথম চিকিৎসালয়টি গড়ে ওঠে। ১৯২৩ সালে মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণের নামাঙ্কিত হাসপাতালটির নির্মাণ শুরু হয়।

আরও পড়ুন:  অন্ধ্রপ্রদেশে মন্দিরের পুরোহিতকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ

তাই স্বাভাবিকভাবেই এই হাসপাতালের নামের পরিবর্তনের কথা সামনে আসার ফলেই এই বিতর্ক দেখা দেয়। এদিন রাজীব প্রসাদ টেলিফোনে জানান এই নাম পরিবর্তন নিয়ে তাঁর কথার ভুল অর্থ বের করা হয়েছে৷ তিনি কখনোই নাম পরিবর্তনের কথা বলেননি৷

তিনি জানিয়েছেন মেডিক্যাল কলেজের নাম কোচবিহার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হলেও হাসপাতালটি মেডিক্যাল কলেজের অংশ হিসেবে কাজ করলেও হাসপাতালের নাম একই থাকবে৷ তার পরিবর্তন হবেনা।

আরও পড়ুন: ভূত দেখতে শান্তিনিকেতন ছুটে গেলেন বনি-ঋত্বিকা