শেখর দুবে, কলকাতা: ভগবানের দেশ কেরলেই সীমাবদ্ধ থাকা নয়, বরং শবরিমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত যে অবস্থান নিয়েছে ভিএইচপি সেটি এবার দেশ জুড়ে ছড়িয়ে দিতে চায়৷ আর এই পদক্ষেপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে চলেছে কুম্ভ মেলাতেই৷

সূত্রের খবর এই মেলা থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বিশ্বহিন্দু পরিষদ৷ কেরলের শবরিমালায় স্বামী আয়াপ্পার মন্দিরে মেয়েদের প্রবেশ করা সংক্রান্ত বিষয়ের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন তা ভারত ব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়েছে কুম্ভ মেলাতে ১৭ জানুয়ারি তারিখে৷ এমনটাই জানিয়েছেন বাংলা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর সৌরীশ মুখোপাধ্যায়৷ তিনি জানান, শবরিমালা বাঁচাও কমিটির কর্তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে৷ ভারত জুড়ে শবরিমালা বাঁচাও আন্দোলনে নামবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ৷

প্রতি ছ’বছরে প্রয়াগরাজে( আগের নাম ছিল এলাহাবাদ) একবার কুম্ভ মেলা হয়৷ ১৫ জানুয়ারি শুরু হয়েছে কুম্ভমেলা৷ এই মেলা চলবে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত৷  পাশাপাশি সৌরীশ আরও জানান, ‘‘৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি রাম মন্দির নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে আমরা কুম্ভতে আসা সাধু সন্তদের সঙ্গে বৈঠকে বসব৷ ওনাদের নির্দেশ মতোই অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের পথে হাঁটবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ৷’’

তবে কুম্ভ তার সাম্প্রতিক অতীতের চরিত্রের মতো এবারও রাজনৈতিক কূট পদক্ষেপের কেন্দ্র হয়ে গিয়েছে৷ শেষ কয়েক বছরে ভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়েছে৷ রাহুল গান্ধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক নেতারা কখনও পৈতে পরে, শিব পুজো করে কিংবা রোজা রেখে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মন জয়ে সচেষ্ট হয়েছেন৷

যদিও কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলগুলি নিজেদের সবসময় ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছে৷ আর ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির বিষয়ে সবচেয়ে এগিয়ে বিজেপি, ‘রাম মন্দিরে’র মতো ইস্যু যাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে জায়গা পেয়েছে বরাবর৷ একই ভাবে হিন্দু ধর্মের অন্যতম বড় তীর্থ প্রয়াগরাজ কুম্ভে ধর্মীয় শ্রদ্ধার সঙ্গে মিশে গিয়েছে রাজনীতি৷

লোকসভা ভোটের মহড়া শুরু করেছে দিয়েছে প্রায় সবদলই৷ এরকম অবস্থায় উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগ কুম্ভ যেখানে অগণিত সাধারণ মানুষ আসেন সেই মঞ্চকে নিজেদের নির্বাচনের প্রচার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে উদ্যোগী হিন্দি বলয়ের বিভিন্ন দল৷ পাশাপাশি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আরএসএস এর মতো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এই মহাকুম্ভের সাধু সন্তদের জমায়েতে থেকেই ‘রাম মন্দির’ কিংবা ‘শবরিমালা’র মতো ইস্যুগুলিতে ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করছে৷

কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে ক্ষমতায় আনার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল উত্তরপ্রদেশের৷ এই রাজ্যের ৮০টি লোকসভা আসনের সিংহভাগ গিয়েছিল বিজেপির ঝুলিতে৷ প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে বারাণসী থেকে জয়ী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী৷ সেই রাজ্যেই গত কয়েকটি উপ নির্বাচনে শোচনীয় হার হয়েছে বিজেপির৷ তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে কলকে পেতে কুম্ভের মঞ্চকে ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি৷ এবং বলা বাহুল্য এই বিষয়ে অন্য যে কোনও দলের থেকে বেশ কিছুটা এগিয়ে এই রাজ্যে ক্ষমতাসীন যোগী আদিত্যনাথের সরকার৷

কুম্ভের বাজেটের দিকে তাকালে এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়৷ সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত খবর ২০১৩ সালে কুম্ভের জন্য সরকার খরচ করে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা৷ সেই অঙ্কটায় যোগী-মোদী সরকারের আমলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,২৩৬ কোটি টাকা৷ যার মধ্যে ২০০০ কোটি টাকা দিচ্ছে যোগী সরকার৷ বাকি অর্থ দিচ্ছে কেন্দ্র৷