নয়াদিল্লি: এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এবার কেন্দ্রকে নিশানা করলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া৷ এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনের জেরে ১৪ কোটি হিন্দু নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়ার৷ একইসঙ্গে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও মোদি-শাহকে কাঠগড়ায় তুললেন তোগাড়িয়া৷ এরই পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইন নিয়েও কেন্দ্রকে দুষেছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই নেতা৷

ধাপে ধাপে এবার দেশজুড়ে এনআরসি কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ একইসঙ্গে তিন প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরনার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে নয়া আইনও তৈরি করেছে কেন্দ্র৷ ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল৷ দেশের একাধিক রাজ্যে পথে নেমে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন বহু মানুষ৷ এমনকী কেন্দ্র বিরোধিতায় পথে নেমে মৃত্যুরও ঘটনা ঘটেছে৷

সিএএ ও এনআরসির প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সিএএ ও এনআরসি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিযে যাওযারও হুঁশিযারি দিয়েছেন মমতা৷ এরই পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি ও সিএএ কার্যকর করা হবে না বলেও সাফ জানিয়েছেন তিনি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও একইভাবে কেন্দ্র-বিরোধিতায় সরব৷ কেরলেও কোনওভাবেই সিএএ ও এনআরসি কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিজয়ন৷

এদিকে, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন দেশের বুদ্ধিজীবীদের একাংশও৷ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতিরও অভিযোগ উঠেছে৷ নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে মাসখানেক ধরে চলা লাগাতার প্রতিবাদ-আন্দোলনে এমনিতেই খানিকটা ব্যাকফুটে গেরুয়া শিবির৷ এর ওপর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া কেন্দ্রের অস্বস্তি আরও বাড়ালেন৷

এনআরসি নিয়ে তোগাড়িয়া বলেন, ‘৪৫ লক্ষ বাংলাদেশি ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তবে ১৫ লক্ষ ভারতীয় দেশের নাগরিকত্বের তালিকা থেকেই বাদ পড়েছেন।’ তোগাড়িয়ার আরও আশঙ্কা, ‘দেশজুড়ে নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হলে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন প্রায় ১৪ কোটি হিন্দু।’

এমনিতেই নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রচারের জেরে এই মুহূর্তে খানিকটা কোণঠাসা গেরুয়া শিবির৷ এবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষ নেতা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খোলায মোদি-শাহদের অস্বস্তি যে বেশ খানিকটা বেড়ে গেল তা বলাই বাহুল্য৷