স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অভিযোগটা কী বা কেনই বা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাংলা বিশ্বহিন্দু পরিষদের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টটি তা এখনও জানা যায়নি৷ কিন্তু ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ ডট টুইটার ডট কম/ ভিএইচপিবেঙ্গলে ক্লিক করলেই লেখা আসছে এই অ্যাকাউন্টটিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে৷ তবে শুধু বিশ্বহিন্দু পরিষদ বাংলা নামের অ্যাকাউন্টটিই নয় সঙ্গেই হিন্দু সংগঠনটির মিডিয়া কনভেনর সৌরিশ মুখোপাধ্যায়ের ট্যুইটারটি ও সাসপেন্ড করা হয়েছে৷

সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হল ট্যুইটার৷ অবসর বিনোদন থেকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় মতাদর্শ খুব অল্প সময়ের মধ্যে বহু মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এই সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমটির সাহায্যে৷ কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক ট্যুইটারের সাহায্য নিয়ে উগ্র ধর্মীয় মতবাদ প্রচার করে থাকেন অনেকে৷ এসব ক্ষেত্রে ট্যুইটার ব্যবহারকারীদের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ৷ সাধারণত অশ্লীলতা, হিংসা এবং সাম্প্রদায়িক উসকানির মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রে ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করে থাকে কর্তৃপক্ষ৷ তবে বিশ্বহিন্দু পরিষদের ট্যুইটার কেন বন্ধ করা হল সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি৷

পুরো বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত বিশ্বহিন্দ পরিষদের মিডিয়া কনভেনর সৌরিশ মুখোপাধ্যায়৷ তিনি জানান, ‘‘আমি হিন্দু৷ সোশ্যাল মিডিয়াতে হিন্দুদের কথা বলি৷ বাংলা তথা সারা ভারতে হিন্দুদের অধিকার রক্ষার কথা বলি৷ হিন্দুদের উপর অত্যাচার হলে তার প্রতিবাদ করি৷ সোশ্যাল মিডিয়ার(ফেসবুক , টুইটার) মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করি৷ তাই আমার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হল৷’’ সৌরিশ আরও জানিয়েছেন ১০ হাজারের উপর ফলোয়ার ছিল তার টুইটার অ্যাকাউন্টে৷

সৌরিশের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড করার পরে ট্যুইটারে হ্যাসট্যাগ-ব্রিং ব্যাক সৌরিশ ট্রেন্ডিং শুরু হয়েছে৷ প্রায় ১৪০০ ট্যুইট হয়েছে ব্রিংব্যাক সৌরিশ লিখে৷ দিল্লির বিজেপির মিডিয়া কো-কনভেনর অপূর্ব সিং ও বিষয়টি নিয়ে ট্য়ুইট করেছেন৷ বিশ্বহিন্দু পরিষদ বাংলা এবং মিডিয়া কো-অর্ডিনেটরের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টটি কেন সাসপেন্ড করা হয়েছে বুঝতে পারছেন না সৌরিশ৷ এর পেছনে রাজ্যের প্রশাসনেরও হাত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

প্রসঙ্গত, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন পরবর্থী সময়ে রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েছে৷ শনিবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে বসিরহাট লোকসভার সন্দেশখালিতে চার বিজেপি ও এক তৃণমূল কর্মী মারা গিয়েছেন৷ সূত্রের খবর, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যাতে কোনও প্রকার সাম্প্রদায়িকতা না ছড়ায় সে কারণে ফেসবুক ট্যুইটার সহ ইন্টারনেট পরিষেবার উপর নজর রাখছে রাজ্যের প্রশাসন৷